Main Menu

শুরু হচ্ছে জঙ্গিবিরোধী যৌথ অভিযান, এবার নেতৃত্বে বিজিবি

kalerchitro 16.07এক সপ্তাহের ব্যবধানে গুলশান ও শোলাকিয়ায় ভয়াবহ হামলার প্রেক্ষাপটে আবারও জঙ্গিবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা এ অভিযানে অংশ নেবেন। অভিযানে যৌথ বাহিনীর নেতৃত্ব দেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই মধ্যে এ ব্যাপারে জরুরি দিকনির্দেশনা দিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার, র‌্যাবের অধিনায়ক, বিজিবিসহ অন্যান্য সংস্থাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে এই অভিযান শুরু হবে। গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার তদন্তে উঠে আসে উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে মাসের পর মাস প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে জঙ্গিদের। এ ছাড়া গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও ঝিনাইদহে তাদের আস্তানা ছিল। বিশেষ করে শোলাকিয়ার ঘটনায় হাতেনাতে গ্রেফতার জঙ্গি শরিফুল ইসলাম ওরফে সফিউল জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গিদের আস্তানা ও প্রশিক্ষকদের ব্যাপারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। কীভাবে ছোট ছোট গ্রুপে তাদের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তারও অনেক অজানা তথ্য পুলিশ জানতে পেরেছে।

এদিকে গুলশান ও শোলাকিয়ার ঘটনার পর সন্দেহভাজন কয়েকজন জঙ্গির দেশত্যাগ ঠেকাতে বিমানবন্দর ও সীমান্তে সতর্ক করা হয়েছে। তারা যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া সারাদেশে নিখোঁজ ৯৭ তরুণের একটি তালিকা করেছে পুলিশ। এই তালিকা গতকাল রাতেই পুলিশের নিজ নিজ ইউনিটে পাঠিয়ে তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। দুর্গম এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে যেসব ‘নতুন মুখ’ আসা-যাওয়া করছে তাদের ব্যাপারেও খোঁজ নেওয়া শুরু হয়েছে। ঈদের আগে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে অন্তত ১১ হাজার লোককে আটক করা হয়েছিল। তবে এবারের যৌথ অভিযানের লক্ষ্য শুধু জঙ্গি আটক ও অস্ত্র উদ্ধার। প্রয়োজনে অভিযানে স্থানীয়

জনপ্রতিনিধিরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করবেন।

এ ব্যাপারে রাজশাহীর পুলিশ সুপার অতিরিক্ত ডিআইজি নিশারুল আরিফ সমকালকে বলেন, যৌথ অভিযানের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়া গেছে। সবকিছু গুছিয়ে নেওয়ার পর দু-একদিনের মধ্যে অভিযান শুরু হবে। উত্তরাঞ্চলের আরেকটি জেলার পুলিশ সুপার গতকাল সমকালকে জানান, অভিযান ঘিরে পুরো জেলায় থাকবে বাড়তি নিরাপত্তা। এবারের অভিযানে নেতৃত্ব দেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বিজিবির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, সরকার চাইলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় যে কোনো অভিযানে অংশ নিতে বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।

বিমানবন্দর ও সীমান্তে সতর্কতা :সম্প্রতি দেশ-বিদেশে জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে দেশের সব বিমানবন্দর ও সীমান্তে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বিদেশি গোয়েন্দাদের সঙ্গে বাংলাদেশি গোয়েন্দাদের তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে। দেশ থেকে সন্দেহভাজন কোনো জঙ্গি যাতে বিদেশে পালাতে না পারে এবং দেশের বাইরে থেকে কোনো সন্ত্রাসী বা জঙ্গি ঢুকতে না পারে সে ব্যাপারেও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। অন্তত ১৫ সন্দেহভাজন উগ্রপন্থির ব্যাপারে বিমানবন্দরকে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে জাহাঙ্গীর ওরফে রাজীব, রব্বানী ওরফে বাইক হাসান, রিয়াজুল, সাদ্দাম। এদের কয়েকজন গুলশান ও শোলাকিয়ার হামলায় সন্দেহভাজন।

নিখোঁজ ৯৭ :গুলশান হামলার পরপরই সারাদেশের নিখোঁজ তরুণের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করতে পুলিশ সদর দপ্তর ও কাউন্টার টেররিজমের একটি ইউনিট কাজ শুরু করে। দেশের সকল থানা থেকে সন্দেহভাজন নিখোঁজদের ব্যাপারে তারা তথ্য নেয়। গতকাল এ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেখানে ৯৭ জনের নাম উঠে আসে। তাদের অধিকাংশই ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার। এ ছাড়া নিখোঁজ তরুণদের স্বজনরা অতীতে কোনো জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত ছিল কি-না তাও খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভাড়াটের তথ্য সংগ্রহে উদাসীনতা :জানা যায়, ভাড়াটে তথ্য সংগ্রহের ব্যাপারে জেলা শহরের বাড়ির মালিকদের মধ্যে উদাসীনতা লক্ষ্য করছে পুলিশ। এমনকি মহানগরীতেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের মধ্যে ভাড়াটিয়াদের ব্যাপারে তথ্য রাখার ব্যাপারে তেমন দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে, রাজধানীতে যারা জঙ্গি হামলা চালিয়েছে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে। ঢাকায় এখন পর্যন্ত ২০ লাখের বেশি ভাড়াটের তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

প্রশিক্ষণে অভিনব পন্থা :মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা সমকালকে জানান, বাসা ভাড়া নেওয়া থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণে জঙ্গিরা অভিনব সব পন্থা অনুসরণ করত। একই বাসায় ৭-৮ জন থাকলেও বাসা ভাড়া নিত ১-২ জন। এ ছাড়া জঙ্গিদের প্রশিক্ষকরা অধিকাংশ সময় সন্ধ্যার পর মেসে ঢুকত। অনেক জঙ্গির বাসায় খণ্ডকালীন গৃহকর্মী থাকলেও প্রশিক্ষকরা তাদের এড়িয়ে চলত। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বড় ধরনের অপারেশনে যারা জড়িত তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় আলাদা আলাদা জায়গায়। চূড়ান্ত হামলার ১-২ সপ্তাহ আগে তাদের এক জায়গায় জড়ো করে সর্বশেষ ব্রিফ দেওয়া হতো। গুলশানের হামলার ঘটনায় জড়িত নিবরাস ৭-৮ সহযোগীসহ ২৮ জুন পর্যন্ত ঝিনাইদহের আস্তানায় ছিল। এরপর নিবরাসসহ কয়েকজনকে ঢাকায় আনা হয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে জঙ্গিদের এনে গুলশান ও উত্তরায় রাখা হয়েছিল। তবে গুলশানে হামলায় জড়িত ছয় জঙ্গির ছবি ঝিনাইদহে বাড়ি মালিকের স্ত্রীকে দেখানোর পর কেবল নিবরাস ইসলামকে চিনতে পারেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জঙ্গিদের প্রশিক্ষণে কয়েকটি আস্তানা ভাড়া নেওয়া হয়েছিল।






Related News

Comments are Closed