Main Menu

তুরস্কে ব্যর্থ সেনাঅভ্যুত্থান, নিহত ৯০

kalerchitro 16.07...তুরস্কে তাইয়েপ এরদোয়ানের ডানপন্থি সরকারকে হটাতে সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থান কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের পক্ষে রাজপথে অবস্থান নিয়েছে জনতা, পুলিশ আটক করছে বিদ্রোহী সেনা সদস্যদের। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে অভ্যুত্থানকারীদের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৯০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তুর্কি সরকারি সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ৩৩৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই সেনা সদস্য। সরকারি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাত দিয়ে এএফপির খবরে দেশটির জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানান, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন এরদোয়ান।

টেলিভিশনের খবরে ইস্তানবুল ও আঙ্কারায় রাজপথে থাকা সেনাসদস্যদের পুলিশের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করতে দেখা গেছে। ট্যাংকগুলোতে উঠে সরকার সমর্থকদের উল্লাসের ছবিও এসেছে। তুরস্কের এনটিভিরন খবরে বলা হয়েছে, সেনা অভ্যুত্থান শুরুর পর সংঘর্ষে অন্তত ৯০ জন নিহত হয়েছেন।

এর আগে রাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ভারী ট্যাংক নিয়ে অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালায় সেনাবাহিনী। দেশটির বড় বড় শহরে সংঘর্ষ চলছে। গতকাল শুক্রবার রাত থেকে অভ্যুত্থানের চেষ্টা শুরু হয়। আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি কাদের নিয়ন্ত্রণে, তা বোঝা যাচ্ছে না। সেনাসদস্যরা রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে। সারা রাত ধরে বিস্ফোরণ চলেছে।

এএফপির খবরে জানানো হয়, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন। তিনি ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট দলের (একেপি) সমর্থকদের প্রতি রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। অজ্ঞাত স্থান থেকে দেওয়া দেশটির স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেলের ফুটেজে এরদোয়ান বলেছেন, তিনি এখনো ক্ষমতায় রয়েছেন। অভ্যুত্থানকারীদের চড়া মূল্য দিতে হবে। ফেসটাইম টিভি চ্যানেলে মুঠোফোনে দেওয়া বার্তায় এরদোয়ান বলেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাকারীরা সফল হবে না।

শনিবার প্রথম প্রহরে ইস্তানবুলে পৌঁছে বিমানবন্দরে এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট বলেছেন, অভ্যুত্থানচেষ্টাকারীরা রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ করেছে।

এরদুয়ান অবকাশে থাকার মধ্যেই শুক্রবার ন্যাটো জোটভুক্ত দেশটির পরাক্রমশীল সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেশের শাসনভার নেওয়ার দাবি করে, যা দেশটির টেলিভিশনে প্রচার করা হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, রাজধানী আঙ্কারা এবং দেশটির বৃহত্তম শহর ইস্তানবুলে ট্যাংক নামে, পথে পথে পাহারায় বসেন সেনা সদস্যরা। বিভিন্ন ভবনের নিয়ন্ত্রণও নেন তারা।

উপকূলের শহর মারমারাসি থাকা এরদোয়ান অভ্যুত্থানের খবর পেয়েই জনগণকে তা প্রতিরোধের আহ্বান জানান। এরপর তড়িঘড়ি করে তিনি ইস্তানবুল পৌঁছে এক ভাষণে বলেন, অভ্যুত্থানচেষ্টাকারীরা রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ করেছে। এজন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। অভ্যুত্থানে জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে বলে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র তার নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটভুক্ত দেশটির এই ঘটনায় এরদোয়ান সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছে। ন্যাটোও তুরস্ক সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি অভ্যুত্থানচেষ্টার খবর পেয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে টেলিফোন করে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছেন।

অভ্যুত্থানে জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে বলে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়।

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমকে উদ্ধৃত করে স্থানীয় টেলিভিশনের খবরে শুক্রবার মধ্যরাতে বলা হয়, অভ্যুত্থানে জড়িত ১৩০ জন সেনা সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

টেলিভিশনের ছবিতে ইস্তানবুল ও আঙ্কারায় রাজপথে থাকা সেনা সদস্যদের পুলিশের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করতে দেখা যায়। ট্যাংকগুলোতে উঠে সরকার সমর্থকদের উল্লাসের ছবিও এসেছে।

শনিবার সকাল নাগাদ সারা দেশে সেনা সদস্য গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১৫৬৩ জনে পৌঁছায় বলে এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানায় রয়টার্স।
তুরস্কের এনটিভির খবরে বলা হয়েছে, সেনা অভ্যুত্থান শুরুর পর শুধু আঙ্কারায়ই সংঘর্ষে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন।

নিহতের মোট সংখ্যা ৯০ বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও তাদের অধিকাংশই বেসামরিক মানুষ বলে জানা গেছে।

ইস্তানবুলে দেশটির বৃহত্তম আতাতুর্ক বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ এখন সরকারের প্রতি আনুগত্যশীল সেনাবাহিনীর হাতে। কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সেখানে বিমান উঠানামা স্বাভাবিক হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। তবে রাজধানীর আঙ্কারার বিমানবন্দরে বিমান উঠা-নামা বন্ধ রয়েছে।

একযুগের বেশি সময় ধরে তুরস্ক শাসন করে আসা ডানপন্থি সরকারপ্রধান এরদোয়ানকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের এই চেষ্টা সফল হলে তা হত কয়েক বছরের মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার বড় ধরনের পালাবদল।






Related News

Comments are Closed