Main Menu

বাসে পেট্রলবোমা হামলার মামলা খালেদা জিয়াসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

545f25b57e26d69f0800f8816486bf68-28অবরোধের মধ্যে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যার ঘটনায় করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
গতকাল বুধবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা গ্রেপ্তার হয়েছেন কি না, তা পুলিশকে আগামী ২৭ এপ্রিল জানাতে বলেছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাপস কুমার পাল প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আদালত খালেদা জিয়াসহ পলাতক ২৮ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনমতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এ মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, আদালতে সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। আদালত তা নাকচ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। খালেদা জিয়া আত্মসমর্পণ করবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাঁর বিরুদ্ধে যত মামলা আছে, সবগুলোতে তিনি হাজির হয়েছেন। এই মামলায়ও আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
গত বছরের ১৯ মে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তদন্ত শেষে খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলার অভিযোগপত্র দেয়। গতকাল আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ২৮ জনকে পলাতক দেখিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। বাকি ১০ জনের মধ্যে ছয়জন জামিনে এবং চারজন কারাগারে রয়েছেন। অভিযোগপত্র থেকে বিএনপির নেতা রফিকুল ইসলাম মিয়াসহ ৩১ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য যাঁদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমদ (ভারতে আটক) ও বরকত উল্লা, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, দলের ঢাকা মহানগরের সদস্যসচিব হাবিব-উন-নবী খান, দলের সাবেক সাংসদ সালাউদ্দিন আহমেদ ও তাঁর ছেলে তানভীর আহমেদ, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন।
এ মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ, শিক্ষকনেতা সেলিম ভূঁইয়া ও রফিকুল ইসলাম জামিনে আছেন। কারাগারে আছেন বিএনপির কর্মী সোহাগ, লিটন ওরফে সাব্বির, রফিকুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম। এই চারজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, এ মামলায় ঘটনার তারিখে খালেদা জিয়া পুলিশ দিয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন। কিন্তু তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শেষে তাঁকে পলাতক দেখিয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছে।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে গত বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে লাগাতার অবরোধের ডাক দেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এই অবরোধের মধ্যে ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরী পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা ছোড়া হলে ২৯ জন যাত্রী দগ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে নূর আলম (৬০) নামের এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ ফেব্রুয়ারি মারা যান। ওই ঘটনায় ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে দুটি মামলা করে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ। দুই মামলাতেই খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় গতকাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলো। আর ৬ মে হত্যার অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। একই আদালতে মামলাটি বিচারাধীন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ছয়টি; হত্যা, বিস্ফোরক ও নাশকতার অভিযোগে তিনটি; রাষ্ট্রদ্রোহের একটিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুদকের করা জিয়া চ্যারিটেবল, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট-সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। নাইকো ও গ্যাটকো দুর্নীতির মামলায় উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় বিচার শুরু হয়েছে।
শামা ওবায়েদসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা এক মামলায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ, বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খানসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা এই আদেশ দেন।
গতকাল এ মামলায় অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার দিন ধার্য ছিল। আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
গত বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির ডাকা হরতাল-অবরোধ চলাকালে বাড্ডা এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাড্ডা থানায় এ মামলা করে। পুলিশ তদন্ত শেষে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৬০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। অভিযোগপত্রে শামা ওবায়েদ, মারুফ কামাল খান, শিরিন সুলতানা, সালাউদ্দিনসহ ১৬ জনকে পলাতক দেখিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়।






Related News

Comments are Closed