Main Menu

না ফেরার দেশে চলে গেলেন চিত্রনায়িকা দিতি

6_19975ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানতে হল চিত্রনায়িকা পারভীন সুলতানা দিতিকে। রোববার বিকাল ৪টা ৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন ইউনাইটেড হাসপাতালের চিফ অব কমিউনিকেশন্স ডা. সাগুফা আনোয়ার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫১ বছর। তিনি দুই সন্তান রেখে গেছেন। তার মৃত্যুর খবরে গোটা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুর খবরে হাসপাতালে ছুটে যান চলচ্চিত্র অভিনেত্রীসহ বিশিষ্টজনরা। প্রখ্যাত অভিনেত্রী দিতির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি ও দিতির নিজ এলাকা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁবাসীসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন পৃথক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আজ সোমবার দিতিকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের নিজ গ্রামে দাফন করা হবে। চলচ্চিত্র ও ছোট পর্দার নায়িকা ও সু-অভিনেত্রী দিতি দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। দেশের বেশ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর তাকে মাদ্রাজ ইন্সটিটিউট অব অর্থোপেডিকস অ্যান্ড ট্রমাটোলজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তার মস্তিষ্কে টিউমার চিহ্নিত করেন এবং গত ২৫ জুলাই সফলভাবে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর তিনি দেশে ফিরে আসেন। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আবারও মাদ্রাজ যান দিতি। টিউমার অপসারণ করা হলেও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাননি তিনি। অস্ত্রোপচারের পর কেমথেরাপি দেয়া হচ্ছিল তাকে। পরে দেশে ফিরে এসে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত কয়েকদিন ধরেই তিনি কোমায় ছিলেন বলে জানান চিকিৎসকরা। শেষ পর্যন্ত ইউনাইটেড হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। দিতির মৃত্যুর পর লাশ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়। রোববার এশার নামাজের পর গুলশানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দিতি দেশে ফেরার পরই তার চিকিৎসার্থে তার মেয়ের হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দিতি মডেল হয়েও কাজ করেছেন অসংখ্য বিজ্ঞাপনে। একজন গায়িকা হিসেবেই ছোটবেলা থেকে নিজেকে গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন দিতি। কিন্তু বড় হয়ে তিনি নায়িকা হন। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে অনুপম রেকর্ডিং মিডিয়া থেকে তার প্রথম গানের অ্যালবাম বের হয়। সর্বশেষ লেজার ভিশন থেকে তার দ্বিতীয় একক গানের অ্যালবাম ‘ফিরে যেন আসি’ বাজারে আসে প্রায় তিন বছর আগে। এটিও বেশ দর্শকনন্দিত হয়। দিতির স্বামী সোহেল চৌধুরী ১৯৯৮ সালে খুন হন। এরপর থেকে তিনি তার দুই সন্তান লামিয়া ও দীপ্তকে মানুষ করা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। দিতির পারিবারিক সূত্র জানায়, রোববার বাদ এশা গুলশানের আজাদ মসজিদে প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় দিতির গুলশানের বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর তার মরদেহ বিএফডিসিতে নেয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে দাফন করার জন্য সোনারগাঁয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে দুপুরে আরেকবার জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। দিতি চলে যাওয়ায় চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। হাসপাতালে ছুটে যান নায়িকা শবনম, ববিতা, মৌসুমী, সুবর্ণা মুস্তফা, নায়ক ওমর সানিসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিপুলসংখ্যক বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাকে নিয়ে বলতে গিয়ে শবনম বলেন, দিতির সঙ্গে আমি দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। আপাদমস্তক একজন ভালো মানুষ ছিল দিতি। সব সময়ই তার মুখে হাসি লেগে থাকত। চিত্রনায়ক উজ্জ্বল বলেন, দিতির প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আমিই ওস্তাদ’ চলচ্চিত্রে আমি তার বড় ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। আর তার অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘রাজা বাবু’-তে আমার স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিল। সত্যি বলতে কী খুব দুঃখ হয় দিতির এভাবে চলে যাওয়াটা নিয়ে। নায়িকা ববিতা বলেন, বলতে গেলে দিতি আর আমি একই পরিবারের সদস্য। সোহেল খুন হওয়ার পর মেয়েটা খুব কষ্ট করে দুই ছেলে-মেয়েকে মানুষ করার চেষ্টা করেছে। সত্যি বলতে কী দিতি আমার জুনিয়র হলেও তার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা ছিল বন্ধুর মতো। ১৯৬৫ সালের ৩১ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ে জন্মেছিলেন দিতি। ১৯৮৪ সালে নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে দেশীয় চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন তিনি। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র উদয়ন চৌধুরী পরিচালিত ‘ডাক দিয়ে যাই’। কিন্তু এটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। দিতি অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল আজমল হুদা মিঠু পরিচালিত ‘আমিই ওস্তাদ’। জীবদ্দশায় দুই শতাধিক ছবিতে কাজ করেছেন দিতি। সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘স্বামী-স্ত্রী’ ছবিতে আলমগীরের স্ত্রীর চরিত্রে দারুণ অভিনয় নৈপুণ্যের জন্য প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। দিতি অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে ‘দুই জীবন’, ‘উসিলা’, ‘লেডি ইন্সপেক্টর’, ‘খুনের বদলা’, ‘আজকের হাঙ্গামা’, ‘স্নেহের প্রতিদান’, ‘শেষ উপহার’, ‘অপরাধী’, ‘কালিয়া’, ‘কাল সকালে’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তার শেষ মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘সুইটহার্ট’। ছোট পর্দায়ও দিতি ছিলেন নিয়মিত। অভিনয় এবং নির্মাণ দুটিই একসঙ্গে করতেন দিতি। অপূর্ব ও মোনালিসাকে নিয়ে রুম্মান রশীদের গল্পে দিতি প্রথম ডিএলডি নামক নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা থেকে নির্মাণ করেন ‘খুনসুটিকে দিলাম ছুটি’ নাটকটি। এরপর বিশেষত মা দিবস এলেই তিনি ‘মা’-বিষয়ক গল্প নিয়ে বিশেষ বিশেষ নাটক নির্মাণ করেন। তারপর তিনি অনেক একক নাটক, টেলিছবি নির্মাণ করেন। তার সর্বশেষ অভিনীত ধারাবাহিক নাটক রুদ্র মাহফুজের রচনায় ও সাখাওয়াত মানিকের পরিচালনায় ‘মেঘে ঢাকা শহর’। তার সর্বশেষ প্রচার চলতি ধারাবাহিক নাটক ছিল এটিএন বাংলায় রুদ্র মাহফুজ রচিত ও বিইউ শুভ পরিচালিত ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’। – See more at: http://www.jugantor.com/last-page/2016/03/21/19975/%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87-%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BF#sthash.sz20dUeb.dpuf






Related News

Comments are Closed