Main Menu

পাংশায় স্ত্রীর যোগসাজশে প্রেমিক কর্তৃক স্বামী শহিদুল খুন, কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ।।

উজ্জল কুমার কুন্ডুঃ (রাজবাড়ী প্রতিনিধি) গত ৯ মার্চ ২০১৬ ইংবৃহষ্পতিবার রাতে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নে স্ত্রী রহিমার যোগসাজসশে রহিমার প্রেমিক সোহেল কর্তৃক স্বামী শহিদুল ইসলাম মন্ডল (৩৫) খুন হওয়ার ঘটনায় গত ১৫ মার্চ রাজবাড়ী বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট কর্তৃক কবর থেকে শহিদুলের লাশ উত্তোলনের আদেশ দিয়েছে। যার নং ৬৫/১৬ । নিহতের পারিবারিক ও এলাকা সূত্রে জানা যায়, ইউপির কাজিয়ালপাড়া গ্রামের জিয়া মন্ডলের ছেলে সোহেল (২৪) আনুমানিক প্রায় আড়াই বছর আগে মালয়েশিয়া (বিদেশ) থেকে বাড়ি ফিরে আশার পর একই বাড়ীর দরিদ্র চাচাতো ভাই শহিদুলের বাড়ী আশা-যাওয়া করতো। আশা-যাওয়ার এক পর্যায়ে চাচাতো বড় ভাইয়ের সুন্দরী স্ত্রী ২ পুত্র সন্তানের জননী রহিমার (ভাবি) সাথে ভাব-ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত দৈহিক সম্পর্কতে গড়ায়।বিষয়টি দুই পরিবারের লোকজন টের পেয়ে ঘরোয়াভাবে বৈঠক করে উভয়কেই শাসিয়ে দেয়। পরবর্তীতে তারা পুনরায় যোগাযোগ করে এতে তাদের সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হয়। এমতাস্থায় সোহেল রহিমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখায় এছাড়া শহিদুলকে পৃথিবী থেকে বিদায় করবার জন্য উস্কানি দেয়। পরবর্তীতে দুজনেই শহিদুল কে পথে কাঁটা মনে করে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এদিকে রহিমা সাংবাদিকদের জানান, গত ৯ মার্চ রহিমা তার দুই ছেলেকে নিয়ে নিজ ঘরে শুয়ে থাকা অবস্থায় রাতের কোন এক সময় প্রেমিক পুরুষ সোহেল সহ দুই জন তার স্বামী শহিদুলকে বাইরে থেকে হত্যা করে লাশ নিয়ে বারান্দার উপর এসে রহিমাকে ঘরের দরজা খুলতে বলে। রহিমা ঘরের দরজা খুললে লাশ নিয়ে সোহেলরা ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে। এ সময় রহিমা আর্তচিৎকার করার চেষ্টা করলে তারা রহিমা ও তার দুই ছেলের গলার উপর অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে বলে তুমি বাড়ীর লোকজনকে বুঝাবা যে শহিদুল হার্ডস্ট্রোক করে মারা গেছে, এই কথা বলে তারা চলে যায়। এরপর রহিমা বাড়ীর লোকজনকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে জানায় তার স্বামী শহিদুল হার্ডস্ট্রোক করে মারা গেছে। এদিকে শহিদুলের বড় ভাই হাফিজুল জানায়, চাচাতো ভাই সোহেল ও পরিবারের লোকজন শহিদুলকে চিকিৎসার জন্য পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। পরেরদিন শুক্রবার সোহেল বাড়ী থেকে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর সন্দেহের তীর সোহেলের দিকে নিক্ষেপিত হয়। এ ছাড়াও সোহেল তার পরিবারের লোকজনের সহযোগিতায় অন্যত্র বিয়ের চেষ্টা চালাতে থাকে। এ বিষয়টা রহিমা জানার পর ভাবে আমি যে শয়তানের ফাঁদে পরে স্বামীকে হারালাম। অতঃপর রহিমা তার শ্বশুরবাড়ীর লোকজনকে অবগত করেন যে সোহেল তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার স্বামী শহিদুলকে খুন করেছে, আসলে সে হার্ডস্ট্রোকে মারা যায়নি। এ ব্যাপারে শহিদুলের বড় ভাই শরিফুল মন্ডল বাদি হয়ে গত ১৫ মার্চ সোহেলকে প্রধান আসামী করে অজ্ঞাত ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত উক্ত বিষয়টি পাংশা মডেল থানাকে হত্যা মামলা হিসেবে রুজু করবার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। সেইসাথে নিহত শহিদুলের লাশ কবর থেকে উত্তোলনের জন্য আদেশ প্রদান করেন।আদেশ নং ৬৫/১৬। সর্বশেষ সোহেলের পিতা জিয়া মন্ডলের সাথে কথা হলে তিনি এ ব্যাপারে জানান, শহিদুলের পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী তার ছেলেকে সন্দেহ করায় সে বাড়ী থেকে পালিয়েছে।আমি পুত্র হত্যার বিচার চাই এবং হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।আগামীকাল ২০/০৩/২০১৬ রোজ রবিবার কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হবে বলে জানিয়েছেন পাংশা মডেল থানার ওসি আবু শামা মোঃ ইকবাল হায়াত।






Related News

Comments are Closed