Main Menu

রাস্তার রাজা ট্রাফিক ৬৪টি রুটের যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে

ssমাহবুব মনি,ডেমরা: ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত না থেকে তারা মত্ত চাঁদাবাজিতে। ফলে লেগেই থাকে যানজট। ভোগান্তির শিকার হয় যাত্রীরা। ডেমরায় ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজী এখন ওপেন সিক্রেট। ট্রাফিক সার্জেন্টের নেতৃত্বে চলে ব্যাপক চাঁদাবাজি। আর চাঁদাবাজির কারণে ডেমরা সুলতানা কামাল সেতুর দুই ধারে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ঢাকা-সিলেটসহ ৬৪টি রুটের যানবাহনের যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। ব্রিজের গোড়া, ডেমরা চৌরাস্তা এবং স্টাফ কোয়ার্টার  এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ যানবাহন থামিয়ে চাঁদা আদায় করায় এ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ ব্যাপারে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী জোনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ ওয়াদুদের সঙ্গে কথা হলে তিনি যাত্রাবাড়ী-ডেমরা সড়কে চাঁদাবাজির ঘটনা অ¯^ীকার করেন।
সুলতানা কামাল সেতু এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজীর বিষয়টি কার না জানা? এ সেতু দিয়ে চলাচলকারী ৬৪টি রুটের যাত্রীরা প্রতিনিয়ত যানজটে পড়ে দুর্ভোগ পোহালেও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ বিষয়টিতে নজর দিচ্ছে না। ফলে ট্রাফিক পুলিশের জমজমাট চাঁদাবাজি চলছে প্রকাশ্যে । চাঁদাবাজির জন্য কয়েকটি এলাকা তাদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। তার মধ্যে ষ্টাফ কোয়ার্টার, ব্রীজের রূপগঞ্জের পশ্চিম অংশ, ডেমরা চৌরাস্তা এলাকা উল্লেখযোগ্য। এখানে রমরমা চাঁদাবাজী করা যায় বলে যেকোনো ট্রাফিক সার্জেন্ট বা কনস্টেবল এ এলাকায় দায়িত্ব পেতে জোর তদবির চালান। আর ট্রাফিক পুলিশের এই চাঁদাবাজির কারনে চলে অবৈধ লাইসেন্সবিহীন গাড়িও। ফলে ট্রাফিক পুলিশের অবৈধ আয়ের ¶েত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে ট্্রাফিক স্পটটি। চাঁদাবাজির প্রত্যেকটি স্পটে সার্জেন্ট পুলিশের সাথে সিভিল পোশাকে রয়েছে আরো একটি সার্জেন্ট।  আর সে চলে সেখানে থাকা দায়িত্বরত সার্জেন্ট এর কথামত। কিন্তু বাস্তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ভিন্ন তথ্য। ডেমরা ষ্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় এমন একজনের সাথে কথা হয়। তার নাম জানতে চাওয়া হলে নাম বলেননি তিনি। তার চাকুরী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা স্যারদের সঙ্গে এমনি এমনি থাকি। কোন চাকরুী-টাকুরী করিনা’। এক পর্যায়ে তিনি দ্রুত ঐস্থান ত্যাগ করেন।
অনুসন্ধানে জানা আরো গেছে, উল্লেখযোগ্য এসব এলাকায় ট্রাফিক সার্জেন্টের নেতৃত্বে চলে ব্যাপক চাঁদাবাজি। এ¶েত্রে তারা সিভিল কয়েকজন লোককে অলিখিত নিয়োগ করে তাদের দিয়ে চাঁদাবাজি করে। প্রতি বাস ট্রাক থেকে ক্ষেত্রবিশেষে ২শ’ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে কথিত ট্রাফিক পুলিশ। এ রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী অধিকাংশ যানবাহনের লাইসেন্স নেই। অবৈধ এসব গাড়ি ট্রাফিক পুলিশের টোকেন দিয়ে চলে। ট্্রাফিক সার্জেন্টের নামে প্রতি মাসে আদায় করা হচ্ছে কয়েক লাখ টাকা। রাস্তায় গাড়ি দাড় করিয়ে চালাচ্ছে চাঁদাবাজি। ষ্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় লোকাল পরিবহন গুলো রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়েই যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করে। ফলে প্রতি মুহুর্তই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে থাকে।
একাধিক ট্রাক-কভার্ডভ্যান ও বাস চালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলাচলকারী গাড়ি গুলোর মাসিক ও সাপ্তাহিক চুক্তি রয়েছে ট্রাফিক পুলিশের সাথে। যার কারণে নানা ত্রæটি থাকার পরও নির্বিঘে তারা গাড়ি চালাতে পারছেন। তা ছাড়া গাড়ির কাগজ পত্র ঠিকঠাক থাকলেও নানা অজুহাতে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রো-গ-৩১-২৩০৮ এর গাড়ী চালক ইসমাইল হোসেন বলেন, মঙ্গলবার সকালে তার গাড়িটি ঢাকা থেকে রূপগঞ্জে যাওয়ার পথে ডেমরা ষ্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় থামানো হয়। এ সময় তার গাড়ির কাগজ পত্র ঠিক থাকলেও তার কাছ থেকে  ২শ’ টাকা চাঁদা নেয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চালক বলেন, পুলিশের চাঁদাবাজির কারণে তারা অতিষ্ঠ। ফলে বাধ্য হয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে হচ্ছে।
এদিকে সরকারদলীয়দের রাস্তার পাশে অবৈধ দখলের জন্য রাস্তা সঙ্কুচিত, ফুটপাত দখল, রাস্তার উপর বাজার স্থাপন ও যানবাহন স্টেশন এবং অন্যান্য অবৈধ স্থাপনাসহ নানা কারণে ডেমরায় যানজটের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। ছুটির দিন এমনকি গভীর রাতেও এই দুর্বিসহ জীবন থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কাওসার জানান, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় যদিও আমাদের কোনো হাত নেই। তারপরও থানা পুলিশের সহায়তায় যানজট নিরসনে আমরা মূখ্য ভূমিকা রাখব।
ডেমরা থেকে রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী পৌঁছতে সময় লাগে ১০ থেকে ১৫ মিনিট। সেখানে এখন ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণহীন চাঁদাবাজির কারণে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে। এতে এই রাস্তার যাত্রীদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ডেমরার চৌরাস্তায় কোনো ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন না করায় ৩ দিক থেকে বেপরোয়া গাড়ি চলাচল করার কারণে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ডেমরা চৌরাস্তা ও স্টাফ কোয়ার্টার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দিনরাত চলে ট্রাফিক পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজি। যানজটের কারণে করিম জুট মিল দেইল্লা-বাশেরপুল, কোনাপাড়া থেকে ডেমরা ব্রিজ পর্যন্ত অনেক সময়  জরুরি প্রয়োজনে হেঁটে যেতে হয় যাত্রীদের।
মঙ্গলবার এসব এলাকায় অবস্থান নিয়ে দেখা যায়, সুলতানা কামাল ব্রিজের ডেমরা এবং রূপগঞ্জ দুই পাড়েই লেগে আছে তীব্র যানজট। ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি চেকিংয়ের নামে প্রকাশ্যেই টাকা আদায় করছেন। কেউ টাকা দিতে না চাইলে রাস্তায় গাড়ি আটকে রাখতে দেখা গেছে। পাশাপাশি চিটাগাং রোড থেকে রানীমহল হয়ে সারুলিয়া বাজার পর্যন্ত লেগে থাকে যানজট। ট্রাফিক পুলিশের জ্বালায় অতিষ্ঠ ও হাফিয়ে উঠেছে এই সড়কের যাত্রীসহ চালকরা।
সুলতানা কামাল সেতু দিয়ে বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কের ৬৪টি রুটের প্রতিদিন শত শত যানবাহন যানবাহন চলাচল করছে। নিষেধাজ্ঞা সত্বেও ট্রাফিক পুলিশকে চাঁদা দিয়ে ডেমরায় প্রধান সড়কে দিনের বেলায় দেদারসে ট্রাক চলাচলসহ অনুমোদনবিহীন যানবাহন চলাচল করছে বলে জানিয়েছেন বৈধ যানবাহনের চালকরা। এতে সহজেই বৃদ্ধি পাচ্ছে যানজট। কোনো কোনো জায়গায় দীর্ঘ সময় যানজট থেকে রেহাই পেতে অনেকেই উল্টোপথে গাড়ি চালিয়ে যেতে চেষ্টা করেন। এতে যানজট আরও বেড়ে যায়।
এ বিষয়ে ডেমরারর এসির (পেট্রোল) সঙ্গে কথা বলতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।






Related News

Comments are Closed