Main Menu

সিদ্ধিরগঞ্জে মক্কী নগর মাদ্ররাসার প্রস্তুতিতে পিছু হঠেছে মনির বাহিনী

1 (Medium)সমঝোতা বৈঠক হয়নি উত্তেজনা কর পরিস্থিতি
সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধিন হিরাঝিল এলাকায় মক্কী নগর মাদ্ররাসার প্রস্তুতিতে পিছু হঠেছে প্রতারক মনির বাহিনী। সরকারি জমিকে কেন্দ্র করে গত ৩০’জানুয়ারি মাদ্ররাসা কর্তৃপক্ষের সাতে মনির বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল বুধবার সকাল ১০’টায় সালিশী বৈঠক বসার কথা থাকলেও মনির বাহিনী বসেনি। কবে বসা হবে তাও নিশ্চত না। এতে পরিস্থিতি উত্তেজনা মূলক হয়ে উঠেছে। বৈঠক না হওয়ায় মাদ্ররাসা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক সম্মেলন করার ঘোষনা দিয়েও পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে স্বাক্ষর ছাড়া সাদা কাগজে লিখিত বক্তব্য দিয়েছে উপস্থিত বিভিন্ন প্রিন্ড ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া কর্মীদের কাছে। মাদ্ররাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হলো, ভূমিদস্যু ও কুচক্রি মহলের ন্যাক্কার জনক হামলার সুষ্ঠ সমাধানের জন্য থানা কর্মকর্তাদের দেয়া পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী বুধবার সকাল ১০’টায় মাদ্ররাসায় সমঝোতা মিটিং হওয়ার কথা ছিল। এ মিটিংয়ে ঢাকার শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম, উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ আশপাশের বহু ওলামায়ে নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১২’টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও বিপক্ষের তথা মাদ্ররাসার জমি দখলকারী কেউ মিটিংয়ে উপস্থিত হয় নাই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজকের মিটিং মুলতবী রেখে আগামী কয়েক দিন পর বসার জন্য সময় চাওয়া হয়। উপস্থিত ওলামা নেতৃবৃন্দ প্রতিক্রিয়া জানান, মাদ্ররাসার জায়গা জোরর্পবৃক দখল করে রেখে আবার প্রিন্সিপালকে আঘাত করা কোন বিবেকবান মানুষ মেনে নিতে পারে না। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করছি। পাশাপাশি অবিলম্বে এই জঠিল সমস্যার সামাধান করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সমঝোতা বৈঠককে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার কমপক্ষে অর্ধশতাধিক কওমী মাদরাসার শিক্ষক ও কয়েক হাজার ছাত্র সকাল ৯’টা থেকেই মক্কী নগর মাদরাসার ভিতর ও বাহিরে অবস্থান নেয়। হেফাজত ইসলামের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকেও দেখা গেছে। দূর থেকে আগত বহিরাগত ছাত্রদের মাঝে ছিল অন্যরকমের প্রস্তুতি। নিজস্ব নিরাপত্তার চাদরে মাদ্ররাসাকে ঘিরে রাখে ছাত্র-শিক্ষকরা। মাদ্ররাসার উত্তর ও দক্ষিণে দু’টি প্রবেশ পথে প্রহরীর মত অবস্থান নেয় কমপক্ষে ৫০’জন করে। সকাল ১০’টায় সমঝোতা বৈটক বসার কথা থাকলেও বেলা সাড়ে ১২’টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে মাদ্ররাসা কর্তৃপক্ষ। তার আগে প্রিন্সিপাল তাহের আল হোসাইনী বৈঠকের মূল উদ্যোক্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরাফত উল্লার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও নিশ্চিত হতে পারেনি বৈঠক হবে কিনা। বেলা ১১’টার দিকে ওসি জানিয়ে দেয় এস.এস.সি পরীক্ষা চলার কারণে তিনি সময় দিতে পারবেন না, তবে তার পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি পাঠাবেন। কিন্তু দুপুর ১’টা পর্যন্ত থানা থেকে ওসির প্রতিনিধি হিসেবে কেহ আসেননি। এসময় একই এলাকার প্রতারক মনির ও তার কোন লোকজনকে দেখা যায়নি। তারা কেন বৈঠকে বসলেন না তা জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। বৈঠক হচ্ছেনা তা নিশ্চিত হওয়ার পর বিভিন্ন মাদ্ররাসা থেকে আগত ছাত্র-শিক্ষকরা বাদ জোহর নিজ নিজ স্থানে চলে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হীরাঝিল এলাকায় আটি মৌজায় এস.এ ১৩৯ নং খতিয়ানে ১৮৭ নং দাগে ৯৫ শতাংশ অর্পিত সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে মক্কী নগর কওমী মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে একই এলাকার মনির হোসেনের। এর আগেও একাধিকবার মারামারি হয়েছে। আদালতে মামলাও চলছে। এ মনির এলাকায় ভূমিদস্যু ও প্রতারক হিসেবে পরিচিতি। মাদ্ররাসার প্রতিষ্ঠা মরহুম আলতাফ হোসাইন ভাল মানুষ হলেও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানায়,সরকারি ওই জমি বিগত ১৯৯৪ সালে এলাকার জনৈক মোঃ গিয়াস উদ্দিনগংদেরকে সরকারি ভাবে ইজারা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে গিয়াসউদ্দিনগং ইজারা নবায়ণ না করায় একই এলাকার জামিয়া আবু বক্কর(রাঃ)আল ইসলামিয়া (মক্কী নগর মাদরাসার)তৎকালিন প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মাওলানা আলতাফ হোসাইন গত ২ হাজার ৩ সালে ওই জমি মাদ্ররাসার নামে লীজ নিয়ে নেয়।মামলা সংক্রান্ত জঠিলতার কারণে লীজ বাতিল করা হয়। কয়েক কোটি টাকার এ সরকারি জমি দখল করা নিয়েই মূলত মাদ্ররাসা কর্তৃপক্ষের সাথে মনিরের বিরোধ। এখানে মাদ্ররাসা কর্তৃপক্ষ ও মনির দু’পক্ষই সরকারি জমি দখলদার। এক পক্ষ গড়ে তুলেছে মসজিদ মাদ্ররাসা আরেক পক্ষ গড়ে তুলেছে দোকান পাঠ। চলাচলের রাস্তা দখল করেছে দু’পক্ষই।






Related News

Comments are Closed