Main Menu

সিদ্ধিরগঞ্জ কয়েক কোটি টাকার সরকারি জমি ভোগ দখল করতে মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের মিথ্যাচার, ছাত্রদের বানাচ্ছে লাঠিয়াল বাহিনী

এনএনএস২৪, সোনাররগাঁও(০২ ফেব্র“য়ারী ১৬ইং রোজ মঙ্গলবার) ঃ সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল এলাকায় কয়েক কোটি টাকার সরকারি জমি ভোগ দখল করতে মক্কিনগর মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের মিথ্যাচার, ছাত্রদের বানাচ্ছে লাঠিয়াল বাহিনী। থানা পুলিশের নিষেধ অমান্য করে নতুন ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে মক্কী নগর কওমী মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।বিতর্কিত ভাবে গড়ে উঠা ওই মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে ছাত্রদের উচকানী দিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়ে কয়েক কোটি টাকার সরকারি জমি দীর্ষ দিন ধরেই ভোগ দখল করে আসছে।নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য প্রিন্সিপাল তাহের আল হোসাইনী লীজ বাতিলকৃত সরকারি জমির দখল ঠিকিয়ে রাখতে মিথ্যাচার করে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি করেছে।দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও নারী কেলেঙ্কারীসহ একাধিক মামলার আসামি ওই মাদরাসার পরিচালক এবং শিক্ষদের উচকানীতে বহু অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলেও রহস্য জনক কারণে প্রশাসন নিরব।
অনুসন্ধানে জানা গেছে,সিদ্ধিরগঞ্জ হীরাঝিল এলাকায় আটি মৌজায় এস.এ ১৩৯ নং খতিয়ানে ১৮৭ নং দাগে ৯৫ শতাংশ অর্পিত সম্পত্তি রয়েছে।ওই জমি বিগত ১৯৯৪ সালে এলাকার জনৈক মোঃ গিয়াস উদ্দিনগংদেরকে সরকারি ভাবে ইজারা প্রদান করা হয়।পরবর্তীতে গিয়াসউদ্দিনগং ইজারা নবায়ণ না করায় একই এলাকার জামিয়া আবু বক্কর(রাঃ)আল ইসলামিয়া (মক্কী নগর মাদরাসার)তৎকালিন প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মাওলানা আলতাফ হোসাইন গত ২ হাজার ৩ সালে ওই জমি মাদরাসার নামে লীজ নিয়ে নেয়।উল্লেখ্য যে,ওই সময় ছোট একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে কওমী মাদরাসা পরিচালনা করছিলেন,মাওলানা আলতাফ হোসাইন।অভিযোগ রয়েছে,ওই জমি সরকার লীজ প্রদান করার পর পরই জনৈক মহিতুন্নেসাগং বাদী হয়ে বিজ্ঞ প্রথম যুগ্ন জেলা জজ নারায়ণগঞ্জ আদালতে দেওয়ানী মামলা দায়ের করে।যার নং ০৮।তারিখ ২০০৩।পরে ২ হাজার ৮ সালে ওই মামলায় আদালতে রায় হয় যে, উত্ত জমি অর্পিত সম্পত্তি নয়।পরে সরকার পক্ষ বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা জজ ১ম আদালতে আপিল করে।আপিলে সরকারের পক্ষে রায় হলে ওই জমি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে বহাল রাখা হয়।এখানে উল্লেখ্য যে,মামলা চলাকালিন সময়েই মাওলানা আলতাফ হোসাইন লীজ প্রাপ্ত সরকারি এ জমিতে একাধিক পাকা ও বহুতল ভবন নির্মাণ করে মসজিদ মাদরাসা পরিচালনা করে।এরই ফাঁকে ফাঁকে বহু বার এলাকার লোকজনের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।আপিলে সরকারের পক্ষে রায় ও ডিগ্রি হওয়ার পর ২ হাজার ১০ সালের ৪ আগস্ট মাওলানা আলতাফ হোসাইন লীজ নবায়নের আবেদন করলে একই সালের ৩ অক্টোর আবার লীজ পায়।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে দায়ের করা ওই ০৮/০৩ নং মামলা আপিলে হেরে গিয়ে মহিতুন্নেছাগং মহামান্য সুপ্রীট কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সিভিল রিভিশন করলে নিন্ম আদালতের আদেশের কার্যকরীতা স্থগিত ঘোষনা করেন আপিল বিভাগ।সূত্র জানায়,হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন মামলা দায়ের ও স্থগিতাদেশ অবগত হওয়ার আগেই তৎকালিন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক,উপজেলা নির্বাহী অফিসার,নারায়ণগঞ্জ সদর এবং সহকারি কমিশনার(ভূমি) এর মতামতের ভিত্তিতেই অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে আলতাফ হোসাইনকে লীজ প্রদান করা হয়।পরে হাইকোর্টে সিভিল রিবিশন নং-৪৫০৪/২০০৯ এর স্থগিতাদেশ অবগত হওয়ার পর পরই জেলা প্রশাসক মাওলানা আলতাফ হোসাইনকে দেওয়া লীজ কার্যক্রম স্থগিত করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহন করার নির্দেশ দেন।উল্লেখ্য,এ পরিস্থিতিতে আলতাফ হোসাইন ইন্তেকাল করলে তার ছেলে তাহের আল হোসাইনী মাদরাসার প্রিন্সিপাল নিযুক্ত হন।আইনী জটিলতা থাকায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা মোতাবেক গত ১ বছর আগেই মক্কী নগর মাদরাসার লীজ বাতিল করা হয়।অথচ,সরকারের বিনা অনুমতিতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বহুতল মসজিদ ও ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,মাদরাসার পশ্চিম পাশের রাস্তা ঘেসে নির্মাণ করা এ ভবনের উপর দিয়ে প্রায় ৩ ফিট বাড়িয়ে ফেলায় ওই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল করতে পারবে না।জনস্বার্থে এলাকার লোকজন বাড়তি অংশ বাদ দিয়ে ছাদ ঢালাই করার জন্য মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে বার বার অনুরোধ জানায়।কিন্তু কোন কর্ণপাত না করায় এলাকার লোকজন বিষয়টি থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়ার কাছে অভিযোগ করে।স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হতে ইয়াছিন মিয়া গত ৩০ জানুয়ারি সরেজমিনে গিয়ে মাদরাসার প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলেন।কিন্তু ইয়াছিন মিয়ার উপস্থিতিতেই কিছু উগ্রবাদী শিক্ষকদের উচকানীতে উশৃঙ্খল ছাত্ররা এলাকার লোকজনের উপর চড়াও হয়।তখন হাতা হাতি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সামান্য মারামারির ঘটনা ঘটে।পরিকল্পিত ভাবে নিজেরাই এ ঘটনা ঘটিয়ে ইয়াছিন মিয়ার বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবিতে মাদরাসায় হামলা প্রিন্সিপাল তাহের আল হোসাইনীকে মারধরের মিথ্যা অভিযোগ তুলে।আবার ৩ ফেব্রুয়ারি মিমাংসা বৈঠক বসতে থানায় লিখিত দিয়েও কোন রফাদফা না করেই রাতের আঁধারে ভবনের ছাঁদ ঢালাই দিয়ে দেয়।অথচ যে বাড়তি জায়গা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত তা মিমাংসা না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণ কাজ করতে পুলিশ মানা করেছিলেন।এদিকে একটি মাদরাসার প্রিন্সিপাল হয়েও আলেম সমাজের কলঙ্ক মাওলানা তাহের আল হোসাইনী মিথ্যা অভিযোগ তুলায় এলাকায় তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।সমালোচনার ঝড় তুলা তারই বড় ভাই একই মাদরাসার মুফতি তৈয়ব আল হোসাইনের নারী কেলেঙ্কারী নিস্পত্তি হতে না হতেই আরেকটি মিথ্যা অভিযোগের ঝড় তুলা এ মাদরাসার জন্য সুফল বয়ে আনবে না বলে মনে করছেন সচেতন মহল।






Related News

Comments are Closed