Main Menu

সিদ্ধিরগঞ্জে সিমেন্ট কারখানার শ্রমিক খুন হামলা ভাংচুর-আটক ৯

1 (Medium)সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধিন সুমিলপাড়ায় সেভেন হর্স (সাত ঘোড়া) সিমেন্ট কারখানার বেইল অপারেটর বিল্লাল হোসেন (৩০) খুন হামলা, ভাংচুর আটক-৯। গতকাল রোববার বেলা ১১’টায় কারখানার ভিতরে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্তিত জেটি থেকে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে। নিহতের লাশ উদ্ধারের পর উত্তেজিত এলাকাবাসী কারখানার ভিতরে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। হত্যা কান্ডে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ কারখানার ৯’শ্রমিককে আটক করে। এদের মধ্যে সুজন নামে এক জনের সাথে গত ২৮’জানুয়ারি বিল্লালের গন্ডগোল হয়েছিল। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান (অপরাধ), সার্কেল এসপি ফুরকান শিকদার, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ সরাফত উল্লাহ, ওসি তদন্ত মোঃ রফিকুল ইসলাম, এসআই মাজহারুল ইসলাম, থানা যুবলীগ সভাপতি হাজী মতিউর রহমান মতি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহত বিল্লাল হোসেন সুমিলপাড়া আইলপাড়া এলাকার মোঃ আবুল হোসেনের ছেলে। সে ১’কন্যা সন্তানের জনক। তার স্বজনদের কান্নায় এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। চলছে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি।
জানা গেছে, সাত ঘোড়া সিমেন্ট কারখানার বেইল অপরেটর বিল্লাল হোসেন প্রতিদিনের মত কর্মস্থলে যোগদিতে গত শনিবার বেলা ২’টায় কারখানার ভিতরে প্রবেশ করে। তার ডিউটি ছিল বেলা ২’টা থেকে রাত ১০’টা পর্যন্ত। দিনের বেলায় যথারিতি ডিউটি পালন করলেও সন্ধার পর বিল্লাল কর্মস্থল থেকে উধাও হয়ে পড়ে। এসময় জেডি এলাকায় দায়িত্ব রত নিরাপত্তা প্রহরীর নজরে পড়ে বেইল চলছে কিন্ত বিল্লাল নেই। তখন ওই নিরাপত্তা প্রহরী অন্য এক শ্রমিককে দিয়ে বেইল বন্ধ করিয়ে বিল্লালকে খোঁজতে থাকে। কারখানার কোথায় তাকে না পেয়ে রাত ৯’টায় বিল্লালকে খোঁজতে এক শ্রমিক তার বাসায় যায়। তখন থেকেই বিল্লালের পরিবারের সদস্যরাও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর করতে থাকে। সারা রাত আর থাকে খুজে পাওয়া যায়নি। গতকাল রোববার সকালে জেডির নিচে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে বিল্লালের মৃত দেহ পড়ে থাকতে দেখে শ্রমিকরা। তখন বিল্লাল খুন হয়েছে তা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা ওই সিমেন্ট কারখানার ভিতরে প্রবেশ ঘরে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। কারখানার ভিতরে পার্কিং করে রাখা (ঢাকা মেট্রো উ-১১-২৪৭৬),ঢাকা মেট্রো উ-১১-২৪৭৭)সহ ৬/৭ টি গাড়ি ও ভবনের গ্লাস ভাংচুর করে জনতা। খবর পেয়ে বেলা ১২’টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মাজহারুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে লাশ উদ্ধার করে। নিহতের পরনের সিন্সের প্যান্ট ও পায়ের ক্যার্স এবং গায়ে পুল হাতা গেঞ্জী অখ্যত অবস্থায় রয়েছে। মাথার পিছনের দিক দিয়ে মারতœক আঘাতের দাঘ। যা দিয়ে তাজা রক্তকরণ হচ্ছে। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারনা সন্ধ্যার পর থেকে বিল্লালকে গোপন কোন স্থানে আটকিয়ে রেখে শেষ রাতে যে কোন সময় তাকে হত্যা করে লাশ জেডির নিচে ফেলে রেখেছে ঘাতকরা। বেলা ২’টায় কারখানায় প্রবেশ করে আর বের না হওয়ায় ধারনা করা হচ্ছে হত্যা কান্ডটি কারখানার ভিতরেই ঘটেছে। পাশা পাশি সহকর্মী বা কারখানার লোকজনের হাতেই বিল্লাল খুন হয়েছে। এ হত্যা কান্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িত সন্দেহে নিরাপত্তা প্রহরী তৈয়ব আলী, বেইল অপারেটর মুজাহিদ, বিভিন্ন কাজে কর্মরত সুজন, মান্নান, মাসুদ, মুরাদ, রসুল আমিন ও আবিরকে আটক করেছে থানা পুলিশ। শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে,আটককৃত সুজনের সাথে গত ২৮ জানুয়ারি গন্ডগোল হয়েছিল বিল্লালের।ঘটনার রাতে সজুনও কারখানায় ছিল।ওই গন্ডগোলের সূত্র ধরে সুজনের পরিকল্পনায় হত্যা কান্ডটি ঘটেছে কিনা তাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে কারকানায় শ্রমিক খুন ও এলাকাবাসীর হামলা ভাংচুরের খবর পেয়ে মালিক পক্ষের উর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা, জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান (অপরাধ), সার্কেল এসপি ফুরকান শিকদার, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ সরাফত উল্লাহ, ওসি তদন্ত মোঃ রফিকুল ইসলাম ও থানা যুবলীগ সভাপতি হাজী মতিউর রহমান মতি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান মালিক পক্ষের লোকজন, নিরাপত্তা প্রহরী ও আটককৃতদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। পরে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ।নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরাফত উল্লাহ হত্যা কান্ডের ঘটনা ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৯ জনকে আটক করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি এ খুনের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।






Related News

Comments are Closed