Main Menu

টেক্সটাইল মিলে কাজের মজুরী না পেয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে ৪০ শ্রমিক

ফতুল্লার আসিফ টেক্সটাইল মিলে কাজ করে মজুরী না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে ৪০ জন শ্রমিক। মিল মালিক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও আইনী সহায়তা পাচ্ছেনা শ্রমিক সরদার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। শ্রমিকদের পাওয়া ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা না দিয়ে উল্টো ২ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি জব্দ করে মারধর করার ঘটনায় গত ২০ জানুয়ারি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর থেকেই মিল মালিক আপোশ মিমাংশা বৈঠক বসার জন্য একাধিক তারিখ নির্ধারণ করেও বসছেন না।তার সময় ক্ষেপনের কারণে যন্ত্রপাতির অভাবে শ্রমিকরা অন্য কোথায় কাজ করতে পারেছেনা।এতে সংসারে দেখা দিয়েছে অর্থ সংকট।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে,ফতুল্লা থানার পাগলা দেলপাড়া এলাকায় আসিফ টেক্সটাইল মিলে নতুন একটি ঘর নির্মাণ করার জন্য ৭ লাখ টাকার চুক্তিতে কাজ নেয় ঠিকাদার আবদুল সাত্তার।সাত্তারের ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলম ৪০ জন শ্রমিক নিয়ে গত বছরের ২৮ নভেম্বর থেকে একটানা চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত কাজ করে।ওই সময়ে পর্যায়ক্রমে কারখানা মালিক আমিনুল ইসলাম ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে।বাকী ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা না দিয়ে গত ২০ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় কারখানা মালিক আমিনুল ইসলাম শ্রমিক সরদার জাহাঙ্গীরকে মারধর করে জোর পূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে সব শ্রমিককে কারখানা থেকে বের করে দেয়।তখন জাহাঙ্গীর আলম তাৎক্ষণিক ফতুল্লা থানায় গিয়ে মিল মালিক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।অভিযোগ দায়েরের খবর পেয়ে মিল মালিকের নির্দেশে একদল সন্ত্রাসী ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭ টায় জালকুড়ি দেলপাড়া এলাকার জামানের বাড়ীর ভাড়াটিয়া নরসিংদী জেলার বেলাব থানার চরলতিফপুর গ্রামের মোঃ গোলাপ মিয়ার ছেলে নির্মাণ শ্রমিক আবদুর রব ওরফে রবিন ও রূপগঞ্জ থানার যাত্রামোড়া এলাকার শাহীনকে অপহরণ করে আসিফ টেক্সটাইল মিলের ভিতর আটকিয়ে মারধর করতে থাকে।ঠিকাদার সূত্রে এ খবর পেয়ে ফতুল্লা থানার এসআই এনামুল হক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রাতেই ওই কারখানায় গিয়ে দু,শ্রমিককে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করে।এর পর মিল মালিক ঠিকাদারের সাথে আপোশ মিমাংশা বৈঠক বসার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করে।কিন্তু একাধিক তারিখ নির্ধারণ করে রহস্য জনক কারণে মিল মালিক বৈঠকে না বসে সময় ক্ষেপন করছে।ঠিকাদার আবদুল সাত্তার ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানার কামারখালী গ্রামের মোঃ ইউনুস মোল্লার ছেলে।তিনি রূপগঞ্জ থানার যাত্রামোড়া এলাকায় মতিন কমিশনারের কলোনীতে ভাড়া থাকেন।
ঠিকাদার সাত্তার অভিযোগ জানায়,আমার পাওনা ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা না দিয়ে উল্টো,তেল চালিত ১টি ও বিদ্যুৎ চালিত ১ টি ওয়েল্ডিং মেশিন,১ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার,অক্সিজেন সিলিন্ডারের মিটার ২ টি,গ্যাস সিলিন্ডার ১ টি,গ্যাস সিলিন্ডারের মিটার ১ টি,ওয়েল্ডিং মেশিনের স্প্রিং ১ সেট,গ্রাইন্ডিং মেশিন ১ টি ও আরো প্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতিসহ কমপক্ষে ২ লাখ টাকা দামের জিনিস আটকিয়ে রেখেছে মিল মালিক।এসব যন্ত্রপাতি না দেওয়ায় অন্য কোন সাইটে কাজ করতে পারছিনা।এতে আমার অধিনে থাকা ৪০ জন শ্রমিক বেকার হয়ে বসে আছে।ফলে তারা সকলেই অর্থের অভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।বৈঠক বসার জন্য একাধিক বার সময় নির্ধারণ হলে আমি লোকজন নিয়ে যথাস্থানে হাজির হলেও মিল মালিক হাজির হচ্ছেনা।পুলিশও কোন ব্যাবস্থা নিচ্ছেনা।বরং মিল মালিকের পালিত সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়তই আমাকে হুমকি দিচ্ছে আমিনুল ইসলামের সাথে বারা বারি করলে পরিনাম খুব খারাপ হবে।এতে ঠিকাদার সাত্তার জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে।তাই এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন আবদুল সাত্তার ও তার অধিনস্থ শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার এসআই এনামুল হকের সাথে কথা হলে তিনি আসিফ টেক্সটাইল মিল মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের কথা স্বীকার করেছেন।মিল মালিক আমিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।তার ব্যবহৃত ০১৭১৫১৫৩৪৬৭ মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।






Related News

Comments are Closed