Main Menu

সিদ্ধিরগঞ্জের রাজউক কর্তৃক ৫০০ বিঘা জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদে মেয়রকে স্মারকলিপি

siddhirgonj photo 1 (Medium)সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধিন জালকুড়ি এলাকায় রাজউক কর্তৃক ৫০০ বিঘা জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে স্মারকলিপি দিয়েছে জালকুড়ি ভূমি রক্ষা কমিটি। এসময় উপস্থিত ছিলেন জালকুড়ি ভূমি রক্ষা কমিটির আহবায়ক বদিউজ্জামান বদু, যুগ্ম আহবায়ক সামছুল আলম বাচ্চু, অ্যাডভোকেট মোঃ শাহজাদা দেওয়ান, মোঃ আজিজ দেওয়ান, হাজী মনছুর আহাম্মেদ, সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন, আলাউদ্দিন প্রধান, মোঃ কাইউম, মনজুর আহম্মেদ, মোকলেছুর রহমান প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, খান সাহেব ওসমান আলী জাতীয় স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৯নং ওয়ার্ডের জালকুড়ি এলাকায় রাজউকের আবাসন প্রকল্পের জন্য ৫০০ বিঘা জায়গা অধিগ্রহণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে ওই এলাকায় ৫শ’ বিঘার বেশী জমি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। সেখানে কোন ফসল হয়না কোন ঘরবাড়িও নেই। সেই চিঠি পাওয়ার পর গত বছরের ২৪ আগষ্ট গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য রাজউকের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যা সম্প্রতি একটি স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ওই ৫০০ বিঘা জমি অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে এবং সেখানে কোন ঘর বাড়ি নেই ও ফসল হয়না এই কথাটি সত্য নয়। ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই খাদ্যশস্যসহ মৌসুমী ফসল উৎপন্ন হয়ে আসছিল। কিন্তু বর্তমানে ওই ৫০০ বিঘা জমি এলাকার পানি নিস্কাশনের খালটি খনন না করার ফলে কিছু জায়গা সারা বছর পানির মধ্যে তলিয়ে থাকে। ওই ৫০০ বিঘা জমির অনেকাংশে হাজার হাজার লোকজন আবাসনের জন্য ২ কাঠা থেকে শুরু করে ৫/১০ কাঠা পর্যন্ত ক্রয় করে কিছু অংশে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাসও করছে। সেখানে বেশ কিছু মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা ইত্যাদি নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এখানে অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের মাথা গোজার শেষ স্থান একখন্ড ভূমি রয়েছে। যেখানে সরকার গৃহহীন মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারী জায়গা বরাদ্দ দিয়ে আবাসনের ব্যবস্থা করছেন। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের শেষ সম্বল একখন্ড জমি আবাসন প্রকল্পের নামে অধিগ্রহণ করার প্রস্তাব করা এবং প্রস্তাব বাস্তবায়নে সাহায্য করা নিতান্তই অমানবিক। এই ৫০০ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হলে গৃহে বসবাসরত অসংখ্য লোকজন গৃহহীন হবে। হাজার হাজার লোকজনের ক্রয়কৃত জায়গায় আবাসনের প্রক্রিয়াধীন কর্মকান্ড ধুলিস্মাৎ হবে। হিন্দু মুসলিমের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ মন্দিরের ঐতিহ্য নষ্ট মসজিদ মন্দিরের ঐতিহ্য নষ্ট হবে। এসকল বিষয় বিবেচনা করে বাস্তবতার আলোকে গণশুনানীর ব্যবস্থাসহ বিষয়টি তদন্ত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবনাটি বাতিলের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি গ্রহণকালে মেয়র আইভী বলেন, রাজউকের জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি মন্ত্রনালয়ের ব্যাপার। স্থানীয় একজন সংসদ রাজউককে নারায়ণগঞ্জে এনে বিভিন্ন জায়গা অধিগ্রহণ করাচ্ছে। অধিগ্রহণের প্রস্তাবনা বাতিলের বিষয়ে আমার কিছুই করণীয় নেই। তবে ওই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়টি আমি দেখবো।






Related News

Comments are Closed