Main Menu

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি এখন অপুষ্টি দূর করব কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

55প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করার মাধ্যমে সবার জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য পুষ্টি নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি। আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী একেকটা ধাপ শেষ করে আমরা পরবর্তী ধাপে পা দিচ্ছি। ডেইরি শিল্পের উন্নয়ন জোরদারের মাধ্যমে সবার জন্য পুষ্টি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারের প্রচেষ্টায় সহযোগিতা দেয়ার জন্য বেসরকারি উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেইটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে দুধ উত্পাদনে বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ বিভাগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্বল্প সুদে পর্যায়ক্রমে দুগ্ধ খামারিদের ২শ’ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে তা ধরে রাখতে হবে। বিশ্বে যে খাদ্য-ঘাটতি রয়েছে  কিছু অংশ পূরণের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। প্রধানমন্ত্রী দুগ্ধজাত পণ্য বহুমুখীকরণের মাধ্যমে নতুন পণ্য উত্পাদনের পাশাপাশি এসব পণ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ডেইরি শিল্প বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দুধ উত্পাদনের পাশাপাশি, আমাদের জনস্বাস্থ্যের জন্য এই দুধ নিরাপদ কিনা সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের ঝুঁকি, জীবাণু সংক্রমণ ও ক্ষতিকর উপাদানের ব্যাপারে দুগ্ধচাষিদের সচেতন করে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র চাষিরা দেশে দুধ উত্পাদনের সঙ্গে যুক্ত। দেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বড় আকারে ডেইরি ফার্ম গড়ে ওঠেনি। তাই, ক্ষুদ্র চাষিদের শ্রম কাজে লাগিয়ে দুধ উত্পাদন বৃদ্ধি এবং প্রাণিসম্পদ প্রজাতি উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। দেশব্যাপী ১শ’ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলগুলোতে কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হালাল মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রফতানিতে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। এ ধরনের মাংস রফতানির প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ অনেক মুসলমান-প্রধান দেশ তাদের জনগণের জন্য বিপুল পরিমাণ হালাল মাংস আমদানি করে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের বিস্তীর্ণ চর ও পাহাড়ি এলাকায় গরুর পাশাপাশি মহিষ ও ভেড়া পালন করতে পারি। এছাড়া বিশ্বব্যাপী আমাদের ‘ব্লাকগোট’-এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতি ও বাজেট সম্প্রসারিত হচ্ছে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে এবং শিল্পায়ন ও নগরায়নও দ্রুত হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, এমডিজির মূল লক্ষ্য হচ্ছে— দারিদ্র্য ও অপুষ্টি অর্ধেকে নামিয়ে আনা। তিনি বলেন, তার সরকার দুগ্ধ উত্পাদন বাড়াতে স্বল্প সুদে ঋণ দেয়া ও কৃত্রিম প্রজনন কর্মসূচি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিয়েছে।

দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত অন্যান্য পণ্যের বিপুল চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৩ সালে তত্কালীন সরকার এফএও, ডানিডা ও ইউএনডিপিসহ অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতায় ‘মিল্কভিটা’ হিসেবে সুপরিচিত বাংলাদেশ দুগ্ধ উত্পাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছেন এবং দেশের জনগণকে উন্নয়নের পথ দেখিয়েছেন। তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমরা একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

এই কর্মসূচির অধীনে আগামী পাঁচ বছরে দুধ উত্পাদন ও কৃত্রিম গর্ভধারণ প্রক্রিয়ায় কৃষকদের সহায়তা দিতে ঋণ প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ২শ’ কোটি টাকার একটি পুনঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে। সর্বোচ্চ ৪টি বাছুর সংগ্রহ করে পালনের জন্য প্রত্যেক চাষি ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। এই ধরনের অর্থায়ন ব্যবস্থা থেকে ঋণ লাভের ক্ষেত্রে মহিলা ও প্রান্তিক চাষিরা অগ্রাধিকার পাবেন। সুদসহ ঋণ পরিশোধের জন্য ঋণ গ্রহিতা ১৪ মাসের রেয়াতি সুবিধাসহ সর্বোচ্চ ৫৪ মাস সময় পাবেন। সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ হারে এই ঋণ লাভের সুযোগ দিবে ১৩টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এই ১৩টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের জন্য প্রযোজ্য হারে (বর্তমানে যা পাঁচ শতাংশ) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই ধরনের পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা লাভ করবে। এসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের ঋণ বা লোকসান বা ভর্তুকির জন্য অতিরিক্ত পাঁচ শতাংশ সুদ পাবে।






Related News

Comments are Closed