Main Menu

মতলব উত্তরে কমে যাচ্ছে গমের আবাদ

MATLAB NEWS PICTURE 13-01-2016 (3)মনিরুল ইসলাম মনির ॥
এক সময় শীতের সকাল আর সন্ধ্যার আগের মুহূর্তে সদ্য বপনকৃত গম ক্ষেতে পাখি তাড়ানোর দৃশ্য চোখে পড়ত। গম ক্ষেতের গজানো ছোট্ট গাছ উপড়ে খাওয়ার জন্য ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি ভিড় জমাত। আর এ পাখি তাড়ানোর জন্য ক্ষেত মালিকরা ছোট ছেলেমেয়েদের ক্ষেতের আইলে রাখত। আর অনেক সময় মানুষ আকৃতি করে কলাগাছে রং ও কাপড় পরিয়ে রাখা হতো, তা দেখে পাখিরা ভয়ে ওই জমিতে পড়ত না। কৃষকদের গম চাষে উৎসাহিত করতে মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি দপ্তর উচ্চ ফলনশীল জাতের গমের প্রদর্শনী করছে।

কিন্তু কালের আবর্তে চাঁদপুরের মতলব উত্তরে আর তা চোখে পড়ে না। ৫ ভাগের এক ভাগ জমিতেও আর গম চাষ করে না এলাকার কৃষকরা। ফলন কমে যাওয়ায় অন্যান্য লাভজনক আবাদে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তারা। অথচ বিজ্ঞানভিত্তিক ও নিয়মতান্ত্রিক উপায় অবলম্বন করলে গম চাষে ব্যাপক সাফল্য পাওয়া সম্ভব বলে কৃষিবিদরা জানান। মাত্র ৫ বছর আগেও এ উপজেলায় প্রায় ১ থেকে দেড় হাজার একর জমিতে গম চাষ হতো। প্রতি বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে ৬ থেকে ৭ মণ গম পাওয়া যেত। বর্তমানে দু’চার গ্রাম খুঁজেও গমের আবাদের দৃশ্য চোখে পড়ে না। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ভেজাল বীজ, প্রতিবারই আবহাওয়া অনুকূলে না থাকা ও ফলন অনেক কমে যাওয়াই এ আবাদের প্রতি অনেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ফলন কমে যাওয়ায় উত্পাদন খরচও ওঠে না বলে জানান তারা। এসব কারণে গমের আবাদি জমিগুলোতে ভুট্টা, আখ, বিভিন্ন জাতের ডাল ও ধান চাষে ঝুঁকে পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগের সহায়তায় পরীক্ষামূলক ভাবে ৫টি জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের বারি গম-২৭ ও বারি-২৮ চাষ করেছেন। যা থেকে তিনি ১০ থেকে ১২ মণ ফলন পাবেন বলে আশা করছেন। এ গম বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করে আগামী মৌসুমে আরো বেশি জমিতে এ জাতের গম চাষ করা যাবে।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা  (বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি স্বর্ণপদক প্রাপ্ত) মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদার জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় গম চাষ ভালো হয়েছে।এ উপজেলায় ১২ হেক্টও জমিতে গম চাষ হয়েছে। এছাড়া বারি গম-২৭ ও বারি-২৮ উচ্চফলনশীল জাত কৃষকদের গম চাষে একটি নতুন মাত্রা সংযোজন হয়েছে। যা প্রথমবারের মত পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হয়েছে। মাঠে ফলনের অবস্থা ভালো। আশা করছি কৃষকরা ভালো ফলন পাবেন।






Related News

Comments are Closed