Main Menu

আসুন শান্তিপূর্ণ রাজনীতি এগিয়ে নিই: আশরাফ

শান্তিপূর্ণ রা08851441966b57b5265e5f5eae6d54c5-30জনীতি এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আসুন, আমরা শান্তিপূর্ণ রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে যাই। দেশে নির্বাচন হবে, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচনে একটি জীবনও হত্যার প্রয়োজন হবে না। জননেত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন। আমরাও সেই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি।’
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ ফটকে আয়োজিত আওয়ামী লীগের সমাবেশে সৈয়দ আশরাফ এসব কথা বলেন।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করে। গতকাল এ উপলক্ষে ঢাকায় দুটি সমাবেশ করে দলটি। অপর সমাবেশটি হয়েছে ধানমন্ডির রাসেল স্কয়ারে। উভয় সমাবেশে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী-সমর্থক যোগ দেন।
বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকের সমাবেশে সৈয়দ আশরাফ সভাপতিত্ব করেন। জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, মাহবুব উল আলম হানিফ প্রমুখ।
সৈয়দ আশরাফ গত বছরের ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে বিএনপির টানা হরতাল-অবরোধের সমালোচনা করে বলেন, কিসের জন্য এ আন্দোলন? ৬৪ জনকে হত্যা করলেন, দেড় হাজার মানুষকে আহত করলেন। অর্থনীতির ক্ষতি হলো ১৭ হাজার ১৫০ কোটি টাকার। গাড়ি পোড়ালেন ৭০০। পরীক্ষা বন্ধ করলেন। কিসের জন্য? গণতন্ত্রের জন্য? গণতন্ত্রের জন্য মানুষ হত্যা করতে হয় না। ৭০০ গাড়ি পোড়াতে হয় না।
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে আশরাফ বলেন, ‘আপনি বাংলাদেশকে অকার্যকর করতে চেয়েছিলেন, যাতে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারি। এ জন্য আপনি রক্তের হোলিখেলা খেলেছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ আপনার অপকর্ম কোনো দিন ভুলে যাবে না।’
আমির হোসেন আমু বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে সুরক্ষিত করা হয়েছে। এই নির্বাচন না হলে এ দেশ রাজাকারদের হাতে চলে যেত। তিনি বলেন, বিএনপি বাংলাদেশকে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মতো ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। দেশে জঙ্গিবাদ-উগ্রবাদ সৃষ্টি করে বাইরের শক্তিকে এ দেশে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে তারা।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, ৩০ ডিসেম্বর পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে বিএনপি প্রমাণ করল, গাধা পানি ঘোলা করে খায়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ভুলের মাশুল দিচ্ছে দলটি।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘খালেদা জিয়া মনেপ্রাণে পাকিস্তানি। আমি বিএনপির নেতাদের বলব, অবিলম্বে এই পাকিস্তানি খালেদা জিয়াকে দল থেকে বের করে দিয়ে দলকে ঢেলে সাজান। তাহলে সত্যিকার বিরোধী দল হিসেবে মানুষ আপনাদের গণ্য করবে।’
সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। আরও বক্তব্য দেন এম এ আজিজ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।
ঢাকা মহানগর পুলিশ সমাবেশের আগে কয়েকটি শর্ত দিয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিকেল পাঁচটার মধ্যে সমাবেশ শেষ করা, সড়কে প্রতিবন্ধকতা ও যানজট সৃষ্টি না করা, সীমিত মাইক ব্যবহার ইত্যাদি। সময় মেনেই সমাবেশ শেষ হয়। সমাবেশের কারণে সড়ক বন্ধ থাকলেও রাস্তায় যানবাহন কম নামায় বেশির ভাগ এলাকায় যানজট ছিল না।
প্রায় একই সময়ে বিএনপি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে। দীর্ঘদিন পর একই দিনে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল রাজধানীতে কর্মসূচি পালন করেছে কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই। যদিও এর আগে দুই দলই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ কর্মসূচি দেওয়ায় রাজনীতির মাঠ কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।






Related News

Comments are Closed