Main Menu

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা, পাঠদান ব্যহত

RUPGONJ PHO 2গোলাম মোস্তফা তুহিন ॥
নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের পাইস্কা-বাসুন্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি ভবনের ক্লাস কক্ষের আস্তর ভেঙ্গে খসে খসে পড়ছে। এছাড়া পর্যাপ্ত কক্ষের অভাবে শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস করাতে পারছে না। এতে করে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিরুপায় হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের আস্তর ভেঙ্গে পড়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এছাড়া সারাক্ষন ভয়ে ভয়ে থাকতে হয় কখন দেয়াল ও ছাদ ধ্বসে মাথার উপর পরে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। ঝুঁকিপূর্ণ ও কক্ষ সঙ্কটের কারনে শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠদান চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে।
উন্নয়ন মানেই শিক্ষার আলো। সারা দেশে যখন উন্নয়নের জোয়াড়, শিক্ষার অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার ব্যস্ত, ঠিক এমন সময়ে এ বিদ্যালয়টির জড়াজীর্ন অবস্থায় থাকার কারনে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।
জানা গেছে, ১৯৪৫ সালে ভোলাব ইউপির শিক্ষানুরাগী ও ধনাঢ্য ব্যাক্তি কাজী আলতাব উদ্দিন গ্রাম বাসীর সহযোগীতায় এলাকার প্রতিটি ঘরে শিক্ষার আলো পৌছে দিতেই পাইস্কা-বাসুন্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গড়ে তোলেন। দীর্ঘ দিন বিদ্যালয়টি সুনামের সাথে এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দান করে আসছে। এলাকার শিক্ষাদানে বিদ্যালয়টি বিশেষ অবদানও রেখে চলছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ৭০ বছরের পুরানো পাইস্কা-বাসুন্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এ বিদ্যালয়ে অফিস, লাইব্রেরী, শ্রেনীকক্ষ সহ ৮টি কক্ষ প্রয়োজন হলেও নতুন পুরাতন ২টি ভবনে মাত্র ৬টি কক্ষ রয়েছে। এ দুইটি ভবনের মধ্যে জড়াজীর্ন পুরানো ভবনের ৪টি কক্ষের ছাদের আস্তর খসে খসে পরছে। অনেক স্থানে ছাদের ঢালাই ভেঙ্গে রড বের হয়ে গেছে। ভবনটি একে বারেই ক্লাস করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
অপর ভবনেও ঝুঁকি নিয়ে চলছে নিয়মিত ক্লাসের কার্যক্রম। কোন রকমে জোড়াতালি দিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া। বর্তমানে দুটো ভবনেই প্রতিটি জয়েন্টে জয়েন্টে ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বৃষ্টি হলেই ক্লাসে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। এছাড়া পানি পড়ার সাখে সাথে ছাদ খসে খসে পড়ে। ইতিমধ্যে ছাদ থেকে আস্তর ভেঙ্গে পড়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানা যায়। অত্যান্ত ঝুঁকিপুর্ন দুটি কক্ষে এখন তালা ঝুলানো অবস্থায় রয়েছে। সব মিলিয়ে এখন ক্লাশের উপযুক্ত রয়েছে মাত্র একটি কক্ষ। ভবনের অভাবে ব্যহত হচ্ছে বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষার্থী। সমাজ হারাতে বসেছে মেধাবি মুখ।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা বেগম বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর কৃতিত্বপুর্ন ফলাফল অর্জন করে আসছে। বিগত বহু বছর যাবৎ বিদ্যালয়টি বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। বিদ্যালয়ের নাজেহাল অবস্থার জন্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের নিকট জানালে তারা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে যায় কিন্তু তেমন কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
ভোলাব এলাকার শিক্ষানুরাগী অ্যাড.তায়েবুর রহমান বলেন, শিক্ষা মানেই ঙ্গানের আলো। শিক্ষাগ্রহনের প্রাথমিক স্তর প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর এদেশের প্রায় ৮০শতাংশ লোক গ্রামে বাস করে। তাই গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি দিন দিন বন্ধ হয়ে যায় তাহলে সমাজে বেকারত্ব, বাল্যবিবাহ এবং অপরাধ বৃদ্ধি পাবে।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের প্রশ্ন, ছাদ খসে যদি কোন বড় আকারের দুর্ঘটনা ঘটে দায় ভার কে নেবে ? ভবনের অভাবে কি প্রতি বছর শিক্ষা বঞ্চিত হবে এলাকার খেটে খাওয়া গরিবের সন্তানরা ? বিদ্যালয়ে ভবনের অভাবে পাঠাগার নেই, নেই সীমানা প্রাচীর-সৌচাগার। বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে থাকে। বিদ্যালয়ের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহন না করলে শিক্ষার্থীরা ব্যবক ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লোকমান হোসেন বলেন, বিদ্যালয়টির ভবনের উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ বছরের মধ্যে কাজ ধরা হবে।






Related News

Comments are Closed