Main Menu

বিজয় দিবসে মুখর সংস্কৃতি অঙ্গন

বিজয় দিবসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-ছায়ানটের বর্ণাঢ্য আয়োজন

ঢাকা : ঐতিহাসিক সোহারাওয়ার্দী উদ্যানে নেমেছে লাখো মানুষের ঢল। ভিড় ঠেলে মাঠে প্রবেশ করছেন কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতিসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। বাবার হাত ধরে এসেছে ছোট্ট শিশু। সবার পোশাকেই লাল-সবুজের আভা, হাতে জাতীয় পতাকা। জাতির বিজয়ের দিন ১৬ ডিসেম্বর লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে উৎসাহের যেন কমতি নেই।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুরো সোহারাওয়ার্দী উদ্যান রূপ নিলো জনসমুদ্রে। আর কিছুক্ষণ পরেই সে কাঙ্ক্ষিত ক্ষণ। মাঠের ভেতরে স্টেজের পেছনের স্ক্রিনে তখন ঘড়ির কাঁটার সময় চলার দৃশ্য ভেসে উঠছে। এক মিনিট পরই বাজলো বিকেল ৪টা ৩১ মিনিট। বাঙালির জীবনের ১৬ ডিসেম্বরের এই ক্ষণটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পাকিস্তানিদের জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পথ পাড়ি দিয়ে এই ক্ষণটিতেই অর্জিত হয়েছিল বিজয়। বীর বাঙালির সামনে মাথা নত করে এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সেদিন যা রেসকোর্স ময়দান নামে পরিচিত ছিল, সেখানে মাথা নত করে পাকিস্তানি সেনারা দাঁড়িয়েছিল, স্বাক্ষর করেছিল পারজয়ের সনদে। আর পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নিয়েছিল বাংলাদেশ নামের এক নতুন দেশ।

বিজয়ের সেই ক্ষণেই লাখো কণ্ঠে ১৬ ডিসেম্বর গীত হলো জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’… জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে সবাই দাঁড়িয়ে বুকে হাত রেখে গাইলেন সেই অমর সঙ্গীত। শুধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগতরাই নয় একই সময়ে সারা দেশের মানুষ, অধুনালুপ্ত ছিটমহলবাসী এবং সারাবিশ্বের বাঙালিরা একই সময়ে কণ্ঠ মিলিয়েছে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে।

জাতীয় সঙ্গীত গাইবার এই আয়োজনটি করেছে বিজয় দিবস উদযাপন জাতীয় কমিটি। ২০১৩ সাল থেকে প্রতিবছরই এই আয়োজনটি হয়ে আসছে। জাতীয় সঙ্গীত গাইবার সময় মঞ্চে অন্যদের সঙ্গে অরো উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলাম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাত, শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল প্রমুখ। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের শেষে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। শপথবাক্য পাঠ করান ড. আবুল বারাকাত।

শপথবাক্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা আত্মাহুতি দিয়েছেন, যারা আহত ও পঙ্গু হয়েছেন, যে বীর নারীরা সম্ভ্রম হারিয়েছেন তাদের আত্মাহুতি যাতে ব্যর্থ না হয় সেজন্য আজীবন সচেতন ও সক্রিয় থাকার কথা বলা হয়। দেশকে উগ্র মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা এবং সর্বপ্রকার জাতিগত বৈষম্যের কবল থেকে মুক্ত করার ঐক্যবদ্ধ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়। এর আগে এই আয়োজনে শহীদ পরিবারের সদ্যস্য ও সন্তানদের সম্মান জানানো হয়।

এই আয়োজন শুরু হয় বেলা ১১টায়। উদ্বোধন করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপোষ নয়’ স্লোগানে এই অনুষ্ঠানে ছিল নানা আয়োজন। উদ্বোধকের বক্তব্যে এবিএম খায়রুল হক বলেন, ‘আজ আমাদের হাসির দিন, কান্নার দিন। আমাদের ঘরে ফেরার দিন। মুক্তির আলোয় উদ্ভাসিত হওয়ার দিন। ৭ মার্চ ও পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের জায়গাটিকে চিহ্নিত করতে হবে। আমরা ইতিহাসবিমুখ জাতি। ইতিহাস সংরক্ষণ না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানবে না কি অসীম সাহসী যোদ্ধারা বিশ্বের অন্যতম সেরা সেনাবাহিনীকে হারিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল।’

উদ্বোধনের পর থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজন। আবৃত্তি, ভাওয়াইয়া গান, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান, বাউল গান, নৃত্য, আদিবাসী নৃত্য, আবৃত্তিসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবেশনা ছিল। সন্ধ্যায় ‘কনাসার্ট ফর ফ্রিডম’ আয়োজনে সঙ্গীত পরিবেশন করেন সায়ান, ব্যান্ড অবসকিউর, শিরোনামহীন, আর্বোভাইরাস, ওল্ড স্কুল ও মিনার্ভা।

ছায়ানটের সুরেলা বিজয় উৎসব : 
এ বছর থেকেই আরেকটি অনন্য বিজয় উৎসব আয়োজন শুরু করলো ছায়ানট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এক সুরেলা বিজয় উৎসব। ৪০ মিনিটের এই আয়োজনের বিশেষত্ব হচ্ছে লাল-সবুজের পোশাক পরে মানবপতাকা তৈরি করে সেখানে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়।

১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে ছায়ানট সঙ্গীত বিদ্যায়তনের শিক্ষার্থীসহ সকলে এক হয়ে প্রথমেই বিজয়ের স্লোগান ধ্বনিত হয় ‘মুখে বাংলা, বুকে বাংলা, আমার সোনার বাংলা, জয় বাংলা’। তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আরও ব্যাপক করতেই এ আয়োজন।

স্লোগান শেষে সবুজের বর্গাকার করে তার মাঝে লাল বৃত্তাকার গড়ে তুলে দাঁড়ান শিল্পীরা। ছায়ানট সঙ্গীত বিদ্যায়তনের শিক্ষার্থীরা যখন জাতীয় সঙ্গীত গাইলেন তখন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও ছায়ানটের সভাপতি সন্জীদা খাতুন।

কয়েক হাজার শিল্পী এই আয়োজনে অংশ নেন। এই আয়োজনে সিকান্দার আবু জাফরের কবিতা ‘তুমি বাংলা ছাড়’ আবৃত্তি করেন জহিরুল হক খান। ‘বিপ্লবের রক্তরাঙা ঝাণ্ডা ওড়ে আকাশে’ গানটি একক কণ্ঠে গেয়ে শোনান খায়রুল আনাম শাকিল। সম্মেলক কণ্ঠে গীত হয় ‘আমি মারের সাগর পাড়ি দেব’, ‘আমি ভয় করব না ভয় করব না’, ‘নবীন আশা জাগল যে রে আজ’, ‘জয় হোক জয় হোক’, ‘আমার দেশের মতন এমন দেশ কি কোথাও আছে’, ‘বাংলাভূমির প্রেমে আমার প্রাণ হইল পাগল’, ‘লাখো লাখো শহীদের রক্তমাখা’ গানগুলো। গানের সঙ্গে নাচ পরিবেশন করেন নৃত্যনন্দন ও ছায়ানটের নৃত্যশিল্পীরা। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে শেষ হয় এই আয়োজনটি।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিজয় শোভাযাত্রা : 
‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পথে- জঙ্গিবাদকে দাঁড়াও রুখে’ শীর্ষক আট দিনব্যাপী বিজয় উৎসবের চতুর্থদিন বিজয় দিবসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বের হয়ে শাহবাগ হয়ে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয় শোভাযাত্রাটি।

বিজয়ের আনন্দ ও চেতনা জনসাধারণের মাঝে পৌঁছে দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে নাটক, গান, আবৃত্তি ও নৃত্যাঙ্গনের মানুষরা নিজেদের বিভিন্ন রঙে রাঙিয়ে শোভাযাত্রাটিকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে। আঞ্চলিক সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙাল হরিনাথ, স্বভাব কবি মুকুন্দ দাস, স্বামী বিবেকানন্দসহ দেশের প্রতিশ্রুতিশীল মানুষদের মতো করে নিজেদের সাজিয়ে অনেকে এসেছিলেন শোভাযাত্রায়। এ সময় তাদের হাতে হাতে শোভা পাচ্ছিলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি নজরুল থেকে শুরু করে দেশের আন্দোলন সংগ্রামের অগ্রগামী মানুষের ছবি। মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণাদায়ী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে শুরু হয় এই শোভাযাত্রাটি। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সহ-সভাপতি ঝুনা চোধুরী, সেক্রেটারি জেনারেল আকতারুজ্জামান, জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, মানজার চৌধুরী সুইট, শাহনেওয়াজ প্রমুখ।

দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নেচে গেয়ে আনন্দ-উল্লাসে শোভাযাত্রায় মেতে উঠে জোটভুক্ত শতাধিক সংগঠনের সহস্রাধিক সংস্কৃতিকর্মী ও দেশের সবশ্রেণির জনতা।

শিল্পকলা একাডেমি : 
বিজয় দিবস উদযাপনে শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে নানা মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানমালা। সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে আওয়ামী শিল্পীগোষ্ঠী, শিল্পকলা একাডেমি শিশু প্রশিক্ষণার্থী দল, ভাওয়াইয়া প্রশিক্ষণার্থী দল, খেলাঘর, ঋষিজ ও ব্যান্ড দল চিরকূট।

সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে নটরাজ, ভাবনা, ধৃতি নর্তনালয় ও দিব্য সাংস্কৃতিক সংগঠন। এতে বধির স্কুলের ৬০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মুকাভিনয়। অনুষ্ঠানে একক গান পরিবেশন করেন সমীর বাউল, সাইদুর রহমান বয়াতি, সালমা চৌধুরী, শিবু রায়, শাকিলা জাফর, রফিকুল আলম, আমজাদ দেওয়ান, নবীন কিশোর গৌতম, রীনা আমিন।

একক আবৃত্তি করেন নির্মলেন্দু গুণ, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, আসলাম শিহির, মাসকুর-এ-সাত্তার কল্লোল, রফিকুল ইসলাম, ঝর্না সরকার প্রমুখ। অ্যাক্রোবেটিক শো পরিবেশন করে শিল্পকলা একাডেমি অ্যাক্রোবেটিক দল। জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনের পাশাপাশি একইসময়ে একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণের নন্দনমঞ্চেও অনুষ্ঠিত হয় বিজয়ের নানা আয়োজন।

বাংলা একাডেমি : 
বাংলা একাডেমি গতকাল মহান বিজয় উপলক্ষে সকাল ৮টায় একাডেমির পক্ষ থেকে সাভারস্থ জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে দিনের কর্মসূচি শুরু করে। বিকেল ৪টায় একাডেমির নজরুল মঞ্চে ছিল আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

‘মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলা একাডেমি’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি পিয়াস মজিদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর-এর ট্রাস্টি মফিদুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নিশাত জাহান রানা। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী হাসান আরিফ এবং ঝর্না সরকার। সঙ্গীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী আবদুল হালিম খান, মাহমুদুজ্জামান বাবু, সন্দীপন দাস এবং তানজিনা করিম স্বরলিপি।

জাতীয় জাদুঘর : 

বিজয় দিবসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-ছায়ানটের বর্ণাঢ্য আয়োজন

বিজয় দিবস উপলক্ষে সর্বশ্রেণির দর্শনার্থীদের জন্য জাতীয় জাদুঘর উন্মুক্ত রাখা হয়। এদিন সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী শিশুদেরকে বিনা টিকিটে জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ দেয়া হয়। বিজয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘১৯৭১ ঢাকার গেরিলা অপারেশন’ শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন দুই মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল আলম বীর প্রতীক ও এম এ রশিদ। জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এম আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তৃতা করেন জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর : 
বিজয় দিবসে শেষ হলো মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত ‘মানবাধিকার দিবস থেকে বিজয় দিবস’শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী বিজয় উৎসব। সমাপনী আয়োজনে নাচ, গান, আবৃত্তি, যাত্রাপালা ও নাটকসহ নানা আয়োজনে মুক্তির উল্লাস আর উচ্ছাসে মেতে উঠে শিল্পীরা।

সোসাইটি ফর দি ওয়েলফেয়ার অব অটিস্টিক চিলড্রেন, কল্পরেখা, স্পন্দন, সালেহা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মৈত্রী শিশুদল ও ইউসেপ টুইটা বোট ফিল্ড স্কুলের শিক্ষার্থীরা মনোজ্ঞ এই আয়োজনে অংশ নেয়। এ ছাড়া সন্ধ্যায় লোকনাট্য গোষ্ঠী পরিবেশন করে যাত্রাপালা ‘আনারকলি’। অনুষ্ঠানের অপর ভ্যেনু মিরপুরের জল্লাদখানা বধ্যভূমি স্মৃতিপীঠের আয়োজনের বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেয় চারুলতা একাডেমি, বধ্যভূমি সন্তান দল, বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা-মিরপুর), মিথস্ক্রিয়া আবৃত্তি পরিষদ, মিরপুর সাংস্কৃতিক একাডেমি, নবীন মাঝি, সোনার বাংলা সঙ্গীত একাডেমি, ঘাসফুল শিশু-কিশোর সংগঠন, বাংলা কলেজ যুব থিয়েটার ও সাত্ত্বিক নাট্য সম্প্রদায়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জল্লাদখানায় অনুষ্ঠিত হয় শহীদদের সন্তানদের স্মৃতিচারন পর্ব। এদিন স্মৃতিচারন করেন শহীদ আকরব আলীর পুত্র ফরিদ উজ জামান।

কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা : 
আলোচনা সভা ও আনন্দ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিজয় দিবস উদযাপন করেছে কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা। মেলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে শিশু-কিশোরদের মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা শোনান মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার।

কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের আলোচনায় অংশ নেন সংসদ সদস্য কাজী রোজী, মেলার ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য খোন্দকার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, তিন শিশুবক্তা মিমহা বিনতে মনির, ইসরাত জাহান দিবা ও অরুনিমা ভট্টাচার্য্য। আলোচনা পরবর্তী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় কথাবিতান, সুরবিতান ও নৃত্যবিতান।






Related News

Comments are Closed