Main Menu

মুশফিক-সাকিবের ঝলকে উড়ন্ত জয় বাংলাদেশের

স্টাফ রিপোর্টার : ব্যাট হাতে মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরি, আর বল হাতে সাকিব আল হাসানের ৫ উইকেট। তাতেই জিম্বাবুয়েকে হেসে খেলে হারিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ ১৪৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে জিম্বাবুয়েকে। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল মাশরাফি বাহিনী।today-sports-c

প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের ছুঁেড় দেয়া ২৭৮ রান ২০ বল হাতে রেখেই টপকে গিয়েছিলো জিম্বাবুয়ে। তাই প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ছুড়ে দেয়া ২৭৪ রান কতটা নিরাপদ ছিলো, তা নিয়ে প্রশ্ন ঠিকই জেগেছে। তবে ঐ প্রশ্নের সব উত্তর এ ম্যাচে দাপটের সাথেই দিয়ে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। বিশেষভাবে সাকিব।
উদ্বোধনী জুটিতে জিম্বাবুয়েকে ৪০ রান এনে দেন দুই ওপেনার চামু চিবাবা ও লুক জঙ্গবে। তাতে কিছুটা হলেও চিন্তায় পড়েছিলেন টাইগার দলপতি মাশরাফি। কিন্তু ম্যাশের সব চিন্তা দূর করে দেন বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব। চিবাবাকে ব্যক্তিগত ৯ রানে আউট করার পর তিন নম্বরে নামা ক্রেইগ আরভিনকে ২ রানে থামান সাকিব।
অন্যপ্রান্ত দিয়ে আরেক ওপেনার জঙ্গবেকে ৩৯ রানে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দেন পেসার আল-আমিন। আর সেই সুযোগকে ভালোভাবে কাজে লাগিয়ে ৩৩ ওভারের মধ্যে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করে ফেলেন সাকিব ও মাশরাফি।
সিকান্দার রাজা ও ম্যালকম ওয়ালারকে বিদায় করেন মাশরাফি। আর উইলিয়ামস ও ক্রেমারকে আউট করেন সাকিব। ক্রেমারকে ফিরিয়ে ম্যাচে ৫ উইকেট নেন সাকিব। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব দেখালেন সাকিব।
সাকিবের এমন কীর্তির পরই জিম্বাবুয়ের চিগাম্বুরাকে বিদায়ের টিকিট ধরিয়ে দেন নাসির। তাতেই ম্যাচ জয়ের আনন্দে ভাসে বাংলাদেশ। ম্যাচ চলাকালীন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন জিম্বাবুয়ের উইকেটরকক্ষক মুতুমবামি। ফলে ব্যাট হাতে নামতে পারেননি তিনি। তাই ৯ উইকেটে ১২৮ রান সংগ্রহ করে ম্যাচ হারে জিম্বাবুয়ে। ম্যাচের সেরা হয়েছেন বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিম।
একই ভেন্যুতে আগামী ৯ নভেম্বর অনুষ্টিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ।
এর আগে, প্রস্তুতি ম্যাচের মত প্রথম ওয়ানডেতেও টস হেরে আগে ব্যাট করার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। কিন্তু সুযোগটাকে সদ্বব্যবহার করতে পারেননি ওপেনার হিসেবে খেলতে নামা লিটন দাস। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলেই কোন রান না করে বিদায় নেন তিনি।
লিটনের ফিরে যাওয়া অন্যপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দেখেছেন আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল। তাই তিন নম্বরে নামা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে ইনিংসটা মেরামতের পথেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু লিটনের মত দ্রুতই প্যাভিলিয়নে ফেরেন মাহমুদুল্লাহও। মাত্র ৯ রান করেন ডান-হাতি এই ব্যাটসম্যান।
মাহমুদুল্লাহ যখন ফিরেন তখন দলের স্কোর ২ উইকেটে ৩০ রান। তবে শুরুর ধাক্কাটা আমলে না নিয়ে দলের রানের চাকা সচল করেন তামিম ও চার নম্বরে নামা মুশফিক। তৃতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে দলীয় স্কোর ১শ’-তে স্পর্শ করেন তারা। ঐসময় জুটিতে রান চলে আসে ৮৯ বলে ৭০ রান। আর এখানেই থেমে যায় তামিম ও মুশফিকুরের এক সাথে পথ চলা। ৬৮ বলে ৪০ রান করেন আউট হন তামিম।
তামিমের বিদায়ের পর উইকেটে এসে কিছুটা মারমুখী ভঙ্গিতে খেলা শুরু করেন সাকিব আল হাসান। দু’টি দর্শনীয় বাউন্ডারিতে নিজের ইনিংসটাকে মেরামত করার পরিকল্পনায় ছিলেন সাকিব। তবে নিজের মুখোমুখি হওয়া ২১তম বলে অহেতুক উইকেট ছেড়ে খেলতে গিয়ে স্টাম্পড হয়ে জিম্বাবুয়েকে উল্লাস করার উপলক্ষ্য এনে দেন সাকিব। ফলে ১৬ রান করে থামতে হয় সাকিবকে।
তামিম ও সাকিব দ্রুত ফিরে যাবার পরও ভড়কে যাননি অন্য প্রান্তে উইকেটের সাথে সন্ধি করে ফেলা মুশফিক। রানের চাকা ঠিকই সচল রেখেছিলেন তিনি। তাকে সহায়তায় বেশ মনোযোগী হয়ে উঠেন ছয় নম্বরে নামা সাব্বিরও। ফলে ম্যাচের লাগাম হাতে নিয়ে নেয় বাংলাদেশ।
মুশফিকুর ও সাব্বিরের ব্যাটিং নৈপুণ্যে ভালো স্কোর গড়ার পথটাও পরিষ্কার দেখতে পারে বাংলাদেশ। এ সময় ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরির স্বাদ নেন মুশফিকুর। গত এপ্রিলে পাকিস্তান সিরিজের পর সেঞ্চুরির স্বাদ নেন তিনি।
মুশফিকুরের পাশাপাশি হাফ-সেঞ্চুরির ঢেঁকুর তুলেন সাব্বিরও। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরির পর বেশি দূর যেতে পারেননি সাব্বির। ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৮ বলে ৫৭ রানে আউট হন তিনি। ফলে মুশফিকুরের সাথে ১১৯ রানের জুটি ভাঙ্গে।
সেঞ্চুরির পর ইনিংসটা দীর্ঘ করতে পারেননি মুশফিক। ইনিংসের ৪৮তম ওভারের তৃতীয় বলে আউট হবার আগে ১০৭ রান করেন তিনি। তার ১০৯ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো।
মুশফিক ও সাব্বিরের ব্যাটিং দৃঢ়তার পর লোয়ার-অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান অধিনায়ক মাশরাফি ও আরাফাত সানি দলের স্কোর নিয়ে যান ৯ উইকেটে ২৭৩ রানে। মাশরাফি ৮ বলে ১৪ ও সানি ৮ বলে ১৫ রান করেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে মুজারাবানি ও সিকান্দার ২টি করে উইকেট নেন।
স্কোর কার্ড :
বাংলাদেশ ইনিংস :
তামিম ইকবাল ক জঙ্গবে ব সিকান্দার ৪০
লিটন কুমার দাস ক ক্রেমার ব জঙ্গবে ০
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ব পেনিয়াঙ্গারা ৯
মুশফিকুর রহিম রান আউট (ক্রেমার) ১০৭
সাকিব আল হাসান স্ট্যাম্পড মুতুমবামি ব সিকান্দার রাজা ১৬
সাব্বির রহমান রান আউট (ক্রেমার) ৫৭
নাসির হোসেন ক চিবাবা ব মুজারাবানি ০
মাশরাফি বিন মর্তুজা ক জঙ্গবে ব মুজারাবনি ১৪
আরাফাত সানি রান আউট (উইলিয়ামস/ওয়ালার) ১৫
আল-আমিন হোসেন অপরাজিত ০
অতিরিক্ত লে বা-২, ও-১২, নো-১ ১৫
মোট ৯ উইকেট, ৫০ ওভার ২৭৩

উইকেট পতন : ১/২ (লিটন), ২/৩০ (মাহমুদুল্লাহ), ৩/১০০ (তামিম), ৪/১২৩ (সাকিব), ৫/২৪২ (সাব্বির), ৬/২৪৩ (নাসির), ৭/২৪৩ (মুশফিকুর), ৮/২৬৪ (মাশরাফি), ৯/২৭৩ (আরাফাত)।
জিম্বাবুয়ে বোলিং :
বোলার ওভার মেডেন রান উইকেট অতিরিক্ত
পেনিয়াঙ্গারা ১০ ০ ৩৮ ১ ও-১
জঙ্গবে ৮ ১ ৪৫ ১ নো-১, ও-১
মুজারাবানি ১০ ০ ৬৪ ২ ও-২
ক্রেমার ১০ ০ ৪৫ ০ ও-১
উইলিয়ামস ৫ ০ ৩২ ০ ও-২
সিকান্দার ৭ ০ ৪৭ ২ ০

জিম্বাবুয়ে ইনিংস :
চিবাবা ক লিটন ব সাকিব ৯
জঙ্গবে ক মুশফিকুর ব আল-আমিন ৩৯
ক্রিস আরভিন ক নাসির ব সাকিব ২
উইলিয়ামস ব সাকিব ৮
চিগাম্বুরা এলবিডব্লু ব নাসির ৪১
সিকান্দার ক মুশফিকুর ব মাশরাফি ৩
ওয়ালার ক নাসির ব মাশরাফি ১
ক্রেমার এলবিডব্লু ব সাকিব ১৫
পেনিয়াঙ্গারা ব সাকিব ৫
মুজারাবানি অপরাজিত ০
অতিরিক্ত লে বা-১, ও-৪ ৫
মোট অলআউট, ৩৬.১ ওভার ১২৮
ক্স ব্যাট করেননি আহত মুতুমবামি।
উইকেট পতন : ১/৪০ (চিবাবা), ২/৪৮ (আরভিন), ৩/৫৪ (জঙ্গবে), ৪/৬৫ (উইলিয়ামস), ৫/৭৯ (সিকান্দার), ৬/৮৩ (ওয়ালার), ৭/১২০ (ক্রেমার), ৮/১২৮ (পেনিয়াঙ্গারা), ৯/১২৮ (চিগাম্বুরা)।
বাংলাদেশ বোলিং :
বোলার ওভার মেডেন রান উইকেট অতিরিক্ত
মুস্তাফিজুর ৬ ০ ২৭ ০ ও-২
আরাফাত সানি ৭ ২ ১৯ ০ ০
সাকিব ১০ ০ ৪৭ ৫ ও-১
আল-আমিন ৫ ০ ১৫ ১ ও-১
মাশরাফি ৬ ০ ১৩ ২ ০
নাসির ২.১ ০ ৬ ১ ০

ফল : বাংলাদেশ ১৪৫ রানে জয়ী।
সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মুশফিকুর রহিম (বাংলাদেশ)।






Related News

Comments are Closed