Main Menu

পিরোজপুরে পেয়ারার বাম্পার ফলন

piaraস্টাফ রিপোর্টার: পেয়ারার গ্রাম বলে পরিচিত পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার ২৩টি গ্রামে এবার পেয়ারার বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় পেয়ারা চাষীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে পেয়ারার বাগানগুলোতে এখন ঝুলছে লাখ লাখ কাঁচা-পাকা পেয়ারা। গত বছরের চেয়ে এ বছর প্রায় ২শ’ মেট্রিক টন পেয়ারা বেশি উৎপাদিত হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে।
স্বরূপকাঠি উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার পূর্ব দিক অতিক্রম করলেই আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়ন শুরু। এই ইউনিয়নের ১৮টি গ্রামে রয়েছে ছোট বড় মাঝারী আকারের ২ সহ¯্রাধিক সুদৃশ্য পেয়ারার বাগান। প্রায় ১৮ হাজার জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই ইউনিয়নের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস হচ্ছে পেয়ারা চাষ। যুগ যুগ ধরে এই আটঘর কুড়িয়ানায় পেয়ারা চাষ হলেও এখন প্রতিবছর বাগানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা পেয়ারা চাষের সাথে বাগানের সাথী ফসলের চাষ উৎসাহিত করায় শীতকালীন শাক-সবজি ফুলকপি, বাধাকপি, করলা, সিম, মর্মাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে চাষীরা বাড়তি উপার্জন করে স্বাবলম্বী হচ্ছে।
স্বরূপকাঠি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহের মালিকা জানান, চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন পেয়ারা উৎপাদন হবে বলে তারা আশা করছেন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের জিন্দাকাঠি, ইলুহার, পটুরাকাঠি, গণপতিকাঠি, আদাবাড়ী এবং কুড়িয়ানাসহ ১৮টি গ্রামে এবং জলাবাড়ী ইউনিয়নের ৫টি এবং সমোদয়কাঠি ইউনিয়নের ২টি গ্রামে মোট ৮৫০ হেক্টর পেয়ারা বাগানের মধ্যে একমাত্র কুড়িয়ানাতেই ৬৪৫ হেক্টরের বাগান রয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, এ মৌসুমেও পেয়ারার গায়ে ছিটপড়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেলেও বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগে অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে। তবে পরিবহন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হলে চাষীরা বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ মূল্যে পেয়ারা বিক্রি করতে পারবে। গাছ থেকে পাকা পেয়ারা সংগ্রহের পর ৩০ থেকে ৩৫ ঘন্টার মধ্যেই পচন শুরু হয়। ফলে বিপুল পরিমাণ পেয়ারা প্রতিবছর পচে নষ্ট হওয়ায় চাষীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান মো. অহিদুজ্জামান সরকারি উদ্যোগে একটি অত্যাধুনিক জেলি কারখানা স্বরূপকাঠিতে স্থাপনের বিষয়ে গুরুত্ব¡ আরোপ করেছেন।
আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পেয়ারা বিক্রির জন্য রয়েছে ৮টি গালা। এ সব স্থানে গড়ে উঠেছে অনেকগুলো আড়ৎ। চাষীরা বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করে নৌকা বা ট্রলারে করে এই সব গালায় পেয়ারা নিয়ে আসেন।
আড়ৎদার মহসীন মিয়া জানান, তারা পেয়ারা ক্রয় করে ট্রলারে স্বরূপকাঠিতে নিয়ে যান এবং সেখান থেকে প্রতিদিন দ্বিতল লঞ্চে করে ঢাকায় প্রেরণ করেন। স্বরূপকাঠি লঞ্চঘাটে প্রতিদিন ঢাকাগামী ৪টি দ্বিতল লঞ্চ ঘাট দেয়ার নিয়ম থাকলেও লঞ্চ মালিকদের সৃষ্ট রোটেশন প্রথার কারণে ২টি লঞ্চ ঘাট দেয়। এই সব লঞ্চ ভান্ডারিয়া হুলারহাট কাউখালী থেকে ডাব, কলা, আমড়াসহ বিভিন্ন ধরনের কাচা মালামালে পরিপূর্ণ হয়ে আসায় স্বরূপকাঠি থেকে খুব বেশি পেয়ারা পরিবহন করতে পারে না। ফলে আড়ৎদাররা অনেক সময় ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ট্রাকে করে ঢাকা বা অন্যান্য স্থানে ফেরির কারণে সময় সাপেক্ষ বলে পেয়ারা পাঠানো সম্ভব হয় না।





Related News

Comments are Closed