Main Menu

বার্সেলোনা ৯ গোলের রোমাঞ্চে শিরোপা জিতলো

news-12ক্রীড়া প্রতিবেদক- ম্যাচের ১৫ মিনিটের মধ্যে তিন গোল। সবগুলোই ফ্রি-কিক থেকে! প্রথমার্ধ শেষে ম্যাচের ফলাফল— বার্সেলোনা ৩, সেভিয়া ১। বিরতির পর ৫১ মিনিটের মাথায় আরো একটি গোল করে বার্সা। এর পর ম্যাচে আর কী থাকে? যা থাকে, সেটা হলো নিখাদ রোমাঞ্চ। নাটকীয় মোড়। ফুটবলে এসব প্রতিদিন দেখা যায় না। মঙ্গলবার উয়েফা সুপার কাপে এমন রুদ্ধশ্বাস ম্যাচই উপহার দিল বার্সা-সেভিয়া। ১-৪ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে স্কোরলাইনটা ধীরে ধীরে বদলে দেয় সেভিয়া। ৫৭ মিনিটের মাথায় ৪-২, ৭২ মিনিটে ৪-৩ আর ম্যাচ শেষ হওয়ার ৯ মিনিট আগে ৪-৪! শেষ পর্যন্ত খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। প্রথমার্ধ কেটে যায় গোলশূন্য। দ্বিতীয়ার্ধের ৫ মিনিট বাকি থাকতে শুরু রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার।

নির্ধারিত সময়ের প্রথমার্ধেই ক্যারিয়ারে এক ম্যাচে প্রথমবারের মতো ফ্রি-কিক থেকে দুই গোল করার পর ১১৫ মিনিটের মাথায় আবারো ফ্রি-কিক পান মেসি। তার শট সেভিয়ার মানবদেয়ালে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারটির শট সেভিয়ার এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে গোলে ঢুকেই যাচ্ছিল। কিন্তু ডানপ্রান্তে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত দক্ষতায় বলটি ফিরিয়ে দেন সেভিয়া গোলরক্ষক বেতো। ফিরতি বলকে জালে পাঠাতে ভুল করেননি বদলি হয়ে মাঠে নামা বার্সার সুযোগ সন্ধানী স্ট্রাইকার পেদ্রো রদ্রিগেজ। ৫-৪! ম্যাচের বাকি ৫ মিনিটে সমতায় ফেরার দারুণ দুটি সুযোগ পেয়েছিল সেভিয়া। কিন্তু কোকের হেড কিংবা ফাঁকা গোলপোস্ট পেয়েও আদিল রামি কেন বলে পা ছোঁয়াতে পারলেন না, তা বহুদিন পোড়াবে সেভিয়া সমর্থকদের। শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার এ ম্যাচে সেভিয়াকে ৫-৪ গোলে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপে এসি মিলানের গড়া রেকর্ডে ভাগ বসায় বার্সেলোনা। আসরটিতে বার্সা ও মিলানই এ পর্যন্ত শিরোপা জিতেছে সর্বোচ্চ পাঁচবার।

২০১৫ সালে এটা তাদের চতুর্থ শিরোপা। গত সাত বছরে ৪০টি টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে বার্সার জেতা শিরোপার সংখ্যা কুড়িটি! এ তালিকায় শেষ ট্রফিটা যোগ করতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখলেন যিনি, সেই পেদ্রো কিন্তু এ বছর বার্সার বাকি দুটি টুর্নামেন্ট (স্প্যানিশ সুপার কাপ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ) খেলতে পারবেন না। মঙ্গলবারই বার্সা ছাড়ার খবরটি নিশ্চিত করেন তিনি। অর্থাৎ উয়েফা সুপার কাপের শিরোপাটা বার্সার জন্য পেদ্রোর বিদায়ী উপহার! প্রথম একাদশে জায়গা পাননি পেদ্রো। অতিরিক্ত সময়ের ৩ মিনিটের মাথায় তাকে মাঠে নামান বার্সা কোচ এনরিকে। ২০০৯ সালে শাখতার দোনেেস্কর বিপক্ষে এই উয়েফা সুপার কাপেই ১১৫ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন পেদ্রো। এদিনও জয়সূচক গোলটি এসেছে তার পা থেকে। তাও একই সময়ে! ছয় বছর আগের সেই সময়ে পেপ গার্দিওলার অধীনে এক বছরে রেকর্ড ছয়টি শিরোপা জিতেছিল বার্সা। চলতি বছরের চতুর্থ শিরোপাটা জিতে দলকে সে পথেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন লুই এনরিকে। শুক্রবার স্প্যানিশ সুপার কাপের প্রথম লেগে অ্যাতলেটিক বিলবাওয়ের মুখোমুখি হবে তার দল। ডিসেম্বরে জাপানে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের আসর।

টানা দুবারের ইউরোপা লিগ চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে বার্সার হয়ে বাকি দুই গোল করেন লুই সুয়ারেজ ও রাফিনহা। এনরিকে বার্সার ম্যানেজার থাকাকালীন দলটির বিপক্ষে প্রথমবারের মতো চার গোল করার শক্তি দেখাল সেভিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানো সেভিয়া মনে করিয়ে দিচ্ছিল ২০০৬ সালে সুপার কাপের ম্যাচকে। সেবার বার্সাকে ৩-০ গোলে হারায় তারা। এবারের ম্যাচে ৫৭ মিনিটে সেভিয়া অধিনায়ক রেইস ব্যবধান কমালে ঘুরে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস পেয়ে যায় সেভিয়া। ৭২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে কেভিনের গোল ও ৮১ মিনিটে কোনোপ্লিয়াঙ্কার গোলে ম্যাচে ফেরে দলটি। কিন্তু পেদ্রোর গোল তাদের লড়াইকে মাটি করে দেয়। ম্যাচসেরা হলেও পেদ্রোকে পুরস্কারটির যোগ্য মনে করছেন মেসি, ‘সে এ পুরস্কারের দাবিদার। ক্লাব ও সতীর্থরা এ মুহূর্তে তার মনের ইচ্ছাটা জানে না। এটা তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু তার যেকোনো সিদ্ধান্তেই আমাদের শুভকামনা থাকবে।






Related News

Comments are Closed