সাদুল্যাপুরে ভিজিএফের ১৭৬ বস্তা চাল জব্দ ॥ থানায় মামলা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: ঈদ উপলক্ষে হত দরিদ্রদের মাঝে বিতরণের জন্য সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চালের মধ্যে পাচারকৃত ১শ’ ৭৬ বস্তা চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার ভোর রাতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় কুমার মহন্ত ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে আজাদুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে এই চালগুলো উদ্ধার করেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, ‘আজাদুল ইসলামের বাড়ি থেকে ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফের ৫০ কেজি ওজনের ১৭৬ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। অভিযানের সময় অভিযুক্ত ব্যবসায়ী আজাদুল ইসলাম পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মনির জানান, ঈদ উপলক্ষে ধাপেরহাট ইউনিয়নের ৩হাজার ৭শত ৮৫ সুবিধাভোগীর জন্য মাথাপিছু ১০ কেজি করে মোট ৩৭ দশমিক ৮৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে সুবিধাভোগীদের মাঝে এই চাল বিতরণ করেন। কিন্তু জনপ্রতিনিধি ও এক শ্রেণির দালাল সুষ্ঠভাবে চাল বিতরণ না করে তিন-চতুর্থাংশ চাল কালোবাজারে বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ উঠে। এমন অভিযোগে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে চাল উদ্ধার করেছে। তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী আজাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি শেষ করেছেন।

সাদুল্যাপুর থানার ওসি (তদন্ত) এমরানুল কবীর জানান, জব্দকৃত চালের বস্তা থানায় রাখা হয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য লাইলি বেগম অভিযোগ করেন, ‘দুই-তিনটি ওয়ার্ডের কিছু সুবিধাভোগী চাল পেলেও তাদের ওজনে কম দেওয়া হয়। এছাড়া বাকী ওয়ার্ডের সুবিধাভোগীদের নামে স্লিপ তৈরী করে সেই স্লিপ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন মেম্বার।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সুষ্ঠভাবেই সুবিধাভোগীদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চাল উত্তোলনের পর ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে সুবিধাভোগীরা। সেই চাল প্রশাসন উদ্ধার করেছে।






Related News

Comments are Closed