১৬ জন শিক্ষকদের মানবতার জীবনযাপন উন্নয়নের নামে শিক্ষকদের বেতন ও ভাতা বন্ধ

সোনারগাঁ প্রতিনিধি ঃ দবির উদ্দিন ভূইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়নের নামে শিক্ষকদের বেতন ও ভাতা বন্ধ রয়েছে বলে সুত্রে জানাগেছে। ১৬ জন শিক্ষকদের ১৬ মাসের বেতন ও পিএফ ফান্ড ৫ বছর যাবত বন্ধ রয়েছে বলে শিক্ষক প্রতিনিধিরা অভিযোগ করে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শরীফুল ইসলামকে জানান।
অনুসন্ধানে জানাযায়, দবির উদ্দিন ভূইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ বালু ভরাটের নামে প্রায় ৩ লাক্ষ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ি বিদ্যালয়ের ১ লাখ টাকা উপরে উন্নয়মূল কাজ হলে সেটি ঠিকাদারের মাধ্যেমে হতে হবে। এছাড়া দেয়াল ও গেট নির্মাণসহ অন্যান উন্নয়মূলক কাজে আরো ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ দেখানো হয়েছে বলে সুত্রে জানা গেছে। এসব উন্নয়ন মূলক কাজ করার কারনে শিক্ষকদের বেতন ও ভাতা বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলে গত ১৮ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে শিক্ষকদের একটি প্রত্যয়ন পত্র দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
সাম্প্রতিক কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় দবির উদ্দিন ভূইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে বিভিন্ন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ড.মোহাম্মদ আজগর আলী ২৯ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকায় সংবাদের প্রতিবাদ দিয়ে উল্লেখ্য করেন বিদ্যালয়ের মাটি ভরাটের কাজ ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি দবির উদ্দিন ভূইয়ার নিজস্ব অর্থায়নেই হচ্ছে।
আরো জানাযায়,বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত টাকা সরকারি নিয়ম অনুযায়ি প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে রাখতে হবে। সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আদায় কৃত টাকা বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে না রেখে ম্যানিজিং কমিটির কাছে গচ্ছিত রেখেছেন বলে সুত্রে জানান। আল-আরাফা ইসলামি ব্যাংক নয়াপুর শাখায় বিদ্যালয়টির ব্যাংক হিসাব রয়েছে। ১অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর পযন্ত বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা বা উত্তোলন করা বন্ধ রয়েছে বলে ব্যাংক কর্মকর্তার সুত্রে জানাযায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন শিক্ষক জানান, ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি দবির উদ্দিন ভূইয়ার নিজস্ব অর্থায়নে যদি বালু ভরাটসহ সকল উন্নয়ন মূলক কাজ হয়ে থাকে তাহলে আমাদের ১৬ মাসের বেতন ও ভাতা বকেয়া রয়েছে কেন। আমরাও শুনেছি সভাপতির নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়নের কাজ হচ্ছে। তাহলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত টাকা যায় কোথায়। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের বকেয়া বেতন ও ভাতা পরিশোধ করার জন্য দ্রুত উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাই
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রধান জানান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় কৃত টাকা বিদ্যালয়ের কোন ব্যক্তির কাছে রাখার সুযোগ নেই। প্রতিদিনের আদায়কৃত টাকা বিদ্যালয়ের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে রাখতে হবে। শিক্ষকদের বেতন সরকারি নিয়ম অনুযায়ি বে-সরকারি বেতন ও ভাতা প্রতি মাসে পরিশোধ করতে হবে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানান,আমি দবির উদ্দিন ভূইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। এসময় শিক্ষকদের বকেয়া বেতন ও ভাতার অভিযোগে পেক্ষিতে সততা পেয়ে দ্রুত বকেয়া বেতন ও ভাতা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছি কর্তৃপক্ষকে । দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে ম্যানিজিং কমিটি গুমকি প্রদান করে তারও সততা পেয়েছি ও ফরম পূরণের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। ।

 






Related News

Comments are Closed