১৭ শিক্ষক অনুপস্থিত, পরীক্ষা ও ক্লাস বন্ধ রূপগঞ্জে নবকিশলয় হাই স্কুল এন্ড গার্লস কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত ॥

rupgonj-pho-1-dt-23-10-2016রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পূর্ণবাসন কেন্দ্রের নবকিশলয় হাই স্কুল এন্ড গার্লস কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বেচ্ছাচারিতা আর অনিয়মসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ নজিবুর রহমানসহ ১৭ শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে কোন নোটিস ছাড়াই রবিবার পরীক্ষা ও ক্লাস বন্ধ রাখা হয়। প্রায় প্রতিদিনই শিক্ষক অনুপস্থিত থাকে। কিন্তু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর থাকে ঠিকই। দুই বছরেও স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে দেখা মেলেনা। পকেট কমিটি হওয়ায় কোন প্রকার তদারকি নেই। সমাজের লোকজন কথা বলতে গেলে দেয়া হয় নানা রকম হুমকি-ধামকি।
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, রোববার নবকিশলয় হাই স্কুল এন্ড গার্লস কলেজে দ্বাদশ শ্রেণীর গার্হস্থ্যবিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিলো সকাল ১০টায়। এছাড়া দুপুর ২টায় ৮ম শ্রেণীর পরীক্ষা ছিল বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়। দশম শ্রেণীর ছিলো শারীরিক শিক্ষা পরীক্ষা। কিন্তু শিক্ষকদের অনুুস্থিতে কোন পরীক্ষাই হয়নি। মোট ২৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৭ জন শিক্ষকই অনুউপস্থিত ছিল। ১১ জন শিক্ষক উপস্থিত থেকে স্কুল ও কলেজ পরিচালনা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
কারন হিসেবে উপস্থিত শিক্ষকরা জানান, নবকিশলয় হাই স্কুল এন্ড গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ নজিবুর রহমান ব্যপক অনিয়ম করছে। কেউ কোন প্রতিবাদ করার সাহস পাননা। প্রতিবাদ করলে বরখাস্তসহ নানা ভাবে হয়রানি করা হয়ে থাকে। ৮ম, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা থাকলেও প্রশ্নউত্তর ছিলো অধ্যক্ষ নজিবুর রহমানসহ অনুপস্থিত শিক্ষকদের হাতে। তাই পরিক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত স্কুল এন্ড কলেজের কার্যক্রম চালানোর কথা থাকলেও শিক্ষক সঙ্কটের কারনে দুপুরের আগেই শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে দেয়া হয়। দুপুর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করে চলে যান। অধ্যক্ষ নজিবুর রহমান বেশির ভাগ সময়ই প্রতিষ্ঠানে আসেননা। তার অনুগত শিক্ষকরা নিজের মতো শিক্ষা কার্যক্রম দিয়ে থাকেন। অনুপস্থিত থাকলেও পরে খাতা-কলমে উপস্থিত দেখানো হয়।
অনুপস্থিত শিক্ষকরা হলেন, অধ্যক্ষ নজিবুর রহমান, আরজিনা বেগম, বিউটি আক্তার, সুলতানা পারভিন, খালেদা আক্তার, সালেহ আহাম্মেদ, সাবিনা আফরোজ, হাসিনা আক্তার, মুকুল হোসেন, সাবিনা ইয়াছমিন, আয়েশা আক্তার, লিটন দাস, জান্নাতুন ফেরদৌস, নারগিছ আক্তার, তানিয়া সুলতানা, হামিদুর রহমান, জসিম উদ্দিন।
উপস্থিত শিক্ষকরা হলেন, মকবুল হোসেন, আবুল হোসেন, জসিম উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, বেলাল উদ্দিন, আলতাফ হোসেন, মেহেদী হাসান, আল্লামা বোরবায়েল, সেলিম সরকার, বিমল চক্রবর্তী, নুর জামাল সোহাগ।
অভিযোগ রয়েছে, অধ্যক্ষ নজিবুর রহমান বিভিন্ন কলাকৌশলে পকেট পরিচালনা কমিটির সহযোগীতা নিয়ে দূর্ণীতি, অনিয়ম ও নানা অপরাধ মুলক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়ে পড়েছেন। পরিচালনা কমিটির সভাপতি ড. হামিদুল হক ১২ বছরের ভেতর হয়তো ২/১ বার স্কুল-কলেজে আসেন। এছাড়া কোন খোঁজখবরও নেননা। কয়েক যুগ ধরে কোন প্রকার তদারকি না থাকায়
অভিভাবক জাফর উল্লাহ জানান, তিনি নবকিশলয় হাই স্কুল এন্ড গার্লস কলেজের পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য ছিলেন। প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রকার অনিয়ম, দুর্নীতি ও নানা অভিযোগের প্রতিবাদ করার কারনে পরিচালনা কমিটির সদস্য পদটিও কেড়ে নেয় নজিবুর রহমান। এছাড়া প্রভাবশালী নেতাদের দিয়ে নানা ভাবে হুমকি-ধামকিও দিয়ে থাকেন। এসব কারনে সমাজের লোকজনও প্রতিবাদ করতে আসেন না।
অধ্যক্ষ নজিবুর রহমানের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ, জুতা-ঝাঁড়– মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারপরও বহাল তবিয়তে অধ্যক্ষ নজিবুর রহমান। এছাড়া কয়েক দিন পুর্বে শিক্ষিকা আক্তারুন্নেছাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলাও করা হয়েছে।
গতকাল রোববার বিকেলে নজিবুর রহমানের বিষয়ে সরেজমিনে তদন্তে আসেন নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফারুক হোসেন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুর রশিদসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অধ্যক্ষ নজিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বর (০১৮১৯-৪০৪৮০৯) রিসিভ করেননি। এরপর ফোন ধরার জন্য মোবাইলে ম্যাসেসও দেয়া হয়।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার সিদ্দিক নুরে আলম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা ইসলাম বলেন, এ ধরনের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৭ জন শিক্ষক অনুপস্থিত এটা হতে পারেনা। আবারও পরীক্ষা ও ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ। তদন্ত করে যদি এমন প্রমান মেলে অব্যশই ব্যবস্থা নেয়া হবে।






Related News

Comments are Closed